ভুলে যাচ্ছেন ছোট ছোট বিষয়ও, গুলিয়ে যাচ্ছে চিন্তাভাবনা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গরমের সময় মাথাযন্ত্রণা বা মাথাঘোরার সমস্যা অনেকেরই হয়। আবার ভার্টিগোর সমস্যা থাকলে তা সহজে সারে না। মাথাব্যথা নিয়ে বড়ই মাথা ঘামান অনেকে। গরমের দিনে তা আরও বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে দেখা দেয় আরও এক সমস্যা। খেয়াল করে দেখা যাবে, গরম যত বাড়ে ততই মাথাযন্ত্রণা, ক্লান্তি বাড়ে। গুলিয়ে যায় চিন্তাভাবনা। সাময়িক ভাবে হলেও ছোট ছোট বিষয় ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে। এ সবই ‘ব্রেন ফগ’-এর লক্ষণ, যার সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। কী ভাবে সামলাবেন এ ধরনের পরিস্থিতি?
মাথা ঝিমঝিম করা, চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাওয়া, কিছু ক্ষণ আগের ঘটা ঘটনা ভুলে যাওয়া অথবা স্মৃতিশক্তি কমতে থাকা ‘ব্রেন ফগ’-এর লক্ষণ। মস্তিষ্ক এমন ধোঁয়াশার কবলে কেন পড়ে, তার কারণ খুঁজতে উঠেপড়ে লেগেছেন গবেষকেরা। দেশের ‘সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) জানিয়েছে, এর সঙ্গে পরিবেশ ও আবহাওয়ারও একটা যোগসূত্র আছে। গরমে অত্যধিক ঘামের ফলে শরীর থেকে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান বা ইলেকট্রোলাইট (সোডিয়াম, পটাশিয়াম) বেরিয়ে যায়। শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে রক্তচাপ কমে যায়, যে কারণে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছতে পারে না।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘন ঘন জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন মস্তিষ্কের কোষকে সাময়িক ভাবে সঙ্কুচিত করে যা ‘ব্রেন ফগ’-এর কারণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে তখন মাথাযন্ত্রণা, মাথাঘোরার সমস্যা শুরু হয়, মনোসংযোগের অভাব ঘটে।
‘ব্রেন ফগ’ কথাটি আদতে কোনও বৈজ্ঞানিক অভিধা নয়। সাধারণত এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা নিজেদের শারীরিক অবস্থা ব্যাখ্যা করার জন্য এই শব্দটি বলে থাকেন। আচমকা ভাবনাচিন্তা শ্লথ হয়ে যাওয়া, মনোযোগের অভাব, স্মৃতিলোপের মতো নানা ধরনের সমস্যা এর উপসর্গ। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক বা থার্মোস্ট্যাট হিসেবে কাজ করে। বাইরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে, তখন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাইপোথ্যালামাসকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। ফলে তার অন্যান্য কাজগুলি যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, চিন্তাভাবনা ও স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা সাময়িক ভাবে কমে যায়। সে কারণেই ঝিমুনি আসে, ক্লান্তি বাড়ে। প্রচণ্ড গরমে আবার ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণেও অসামঞ্জস্য আসে। ফলে দিনের বেলাতেও ক্লান্তি আসে, মাথা ধরে যায়, শরীর অস্থির লাগে।
‘ব্রেন ফগ’ এড়াতে হলে পরিমিত আহার করতে হবে। গরমের সময়ে বাইরের খাবার, ভাজাভুজি বা বেশি তেলমশলা দেওয়া খাবার খাওয়া চলবে না। বেশি চিনি আছে এমন পানীয় এড়িয়ে যেতে হবে। প্রতি দিন পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে এবং তরল খাবার ডায়েটে রাখতেই হবে। কোনও ভাবেই যেন শরীর জলশূন্য না হয়ে পড়ে।