গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করা হবে। সেই সময়সীমা শেষ হতে আর তিন দিন বাকি। তার আগেই ছত্তীসগঢ়ের কাঁকেরে আত্মসমর্পণ করলেন তিন মাওবাদী। শনিবার তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা হলেন রাধা কুঞ্জম, সন্দীপ কাদিয়াম এবং রাইনু পাড্ডা। কুঞ্জম এবং কাদিয়াম এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে দু’টি এসএলআর এবং একটি .৩০৩ রাইফেল উদ্ধার হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৫ এবং ২৬ মার্চে এই জেলাতেই ছয় মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৬ মাসে রাজ্যে ২৭০০ মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁরা মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন।
গত ২৪ মার্চ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাঁর মাথার দাম ছিল ২৫ লক্ষ টাকা। বিজাপুরে জেলা সদর দফতরে আত্মসমর্পণ করেন পাপা। প্রশাসনের হাতে একে ৪৭, এসএলআর-সহ সমস্ত অস্ত্র তুলে দেন আত্মসর্পণকারী মাওবাদীরা। পাপা রাওয়ের স্ত্রী ঊর্মিলাও মাওবাদী সদস্য ছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ঊর্মিলা মূলত মাওবাদীদের আশ্রয় দেওয়া, গোপন ডেরার ব্যবস্থা করা, খাওয়াদাওয়া ইত্যাদির ব্যবস্থা করতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, পাপা রাওয়ের আত্মসমর্পণে দণ্ডকারণ্য অঞ্চলে মাওবাদীদের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো আর বড় কোনও মাথা থাকল না। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা দাবি করেছেন, পাপা রাওয়ের আত্মসমর্পণের পর মাওবাদী মুক্ত হল রাজ্য। এই রাজ্যে মাওবাদীদের আরও কোনও শীর্ষ নেতা থাকল না। অন্য দিকে, ওই দিনই ওড়িশাতেও ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতা সুকরু আত্মসমর্পণ করেছেন।