— প্রতীকী চিত্র।
পিটিয়ে খুনের মামলায় কয়েকজন স্বঘোষিত গোরক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে এখন সাম্প্রদায়িক আক্রমণের মুখে পড়েছেন মধ্যপ্রদেশের এক মহিলা বিচারক। তিনি একট বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছেন— এমন অভিযোগ এনে সামাজিক মাধ্যমে ওই বিচারককে আক্রমণ করা হচ্ছে। বিচারক তবাসুম খানকে এ ভাবে নিশানা করায় নামহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ।
২০২২ সালের ২ ও ৩ অগস্টের মধ্যবর্তী রাতে মধ্যপ্রদেশের নারদারওদা থেকে মহারাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল একটি ট্রাক। গরু পাচার করা হচ্ছে, এমন সন্দেহ করে সিয়োনি মালওয়ার বারাখাণ্ড গ্রামের কাছে একদল লোক গাড়িটি আটকায়। ট্রাকে থাকা দু’জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় ট্রাকটির ড্রাইভার শেখ লালা নাজ়ির আহমেদের মৃত্যু হয়। শেখ মুস্তাক নামে অন্য এক ব্যক্তি আহত হন। গরু পাচারকারী সন্দেহে পিটিয়ে খুনের এই মামলায় নর্মদাপুরম জেলার ‘অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশনস জাজ’ হিসেবে কর্মরত তবাসুম খান জুন মাসের শুরুতে যে রায় দিয়েছেন, তাতে সাত
অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনানো হয়েছে।
রায়ের দিনেই দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পরিবার বিক্ষোভ দেখিয়েছে। অপরাধীদের জেলে নিয়ে যাওয়া আটকাতে পুলিশের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেছে তারা। আর রায়ের কিছু সময় পর থেকেই সমাজমাধ্যমে বিচারককে আক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বঘোষিত গোরক্ষকদের দশ দিনের মধ্যে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি, আবার বিচারকের কুশপুতুল পোড়ানোর ভিডিয়োও সামনে এনেছেন কেউ। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ করার দাবিও উঠেছে। সমাজমাধ্যমে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ধর্মীয় কারণে বিচারক পক্ষপাতপূর্ণ রায় দিয়েছেন।
তবে সমাজের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং আইনজীবীদের অনেকেই বিচারককে এ ভাবে হেনস্থার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেছেন, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হিন্দু হলেও তারা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সাজা পায়নি। বরং খুনের ঘটনার তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাজা পেতে হয়েছে তাদের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে