ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় চলছে ভোটগ্রহণ। ছবি: সংগৃহীত।
রাজ্যসভা ভোটে ‘ক্রস ভোটিং’-এর অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝাকে হারিয়ে জয়ী হলেন বিজেপি সমর্থিত পরিমল নাথওয়ানি। ৮১ সদস্যের বিধানসভায় রাজ্যসভার দু’টি আসনে ভোট হয় বৃহস্পতিবার। প্রার্থী ছিলেন তিন জন। অপর জয়ী প্রার্থী, রাজ্যের শাসক জোটের প্রধান দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) সদস্য বৈদ্যনাথ রাম।
ঝাড়খণ্ডে এ বার প্রত্যেক প্রার্থীকে জিততে হলে ২৮ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। এর মধ্যে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের পক্ষে ছিল ঠিক ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে জেএমএমের ৩৪ জন বিধায়ক, ১৬ জন কংগ্রেস, চার জন আরজেডি ও দু’জন সিপিআই (এমএল) বিধায়ক রয়েছেন। জেএমএম প্রার্থী বৈদ্যনাথ পেয়েছেন ৩০টি প্রথম পছন্দের ভোট। তাদের সহযোগী কংগ্রেসের প্রণব ২০টি। অথচ ‘ইন্ডিয়া’র ৫৬ জন বিধায়ক ছিলেন। সেই হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের দলের প্রার্থী ৩০টি ভোট পেলে কংগ্রেসের ২৬টি পাওয়ার কথা ছিল।
উল্টো দিকে এনডিএ-র পক্ষে ছিলেন ২৪ জন বিধায়ক— ২১ জন বিজেপি বিধায়কের পাশাপাশি এজেএসইউ (আজসু), জেডিইউ, এলজেপি (রামবিলাস এর এক জন করে। এক জন নির্দলও শেষ মুহূর্তে এনডিএ শিবিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু শিল্পপতি পরিমল ভোট পেয়েছেন ২৮টি। ভোটের আগেই অভিযোগ উঠেছিল ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চে যে চার জন আরজেডির বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের অর্থের প্রলোভন ও তদন্তের ভয় দেখিয়ে কাছে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। কার্যক্ষেত্রে ক্রস ভোটিং আরও বেশি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বিজেপির দু’জন এবং কংগ্রেসের এক জন বিধায়কের ভোট বাতিল হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশে পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে পিছিয়ে থেকেও ‘ক্রস ভোটিং’-এ ভর করে কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়েছে বিজেপি। এ বার তার পুনরাবৃত্তি হল ঝাড়খণ্ডে।