এক দুর্নীতি আটকাতে লক্ষ কোটির ব্যাঙ্ক দুর্নীতি, বেফাঁস রামদেব

নোট বাতিল কাণ্ডে এমনিতেই রক্ষণাত্মক শাসক শিবির। তারই মধ্যে আজ বিজেপির অস্বস্তি বাড়ালেন বাবা রামদেব। বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ওই যোগগুরু আজ হঠাৎ বলে বসেন, নোট বাতিলের ফায়দা নিয়ে এক শ্রেণির ব্যাঙ্ককর্মী কয়েকশো কোটি টাকা বানিয়ে ফেলেছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ ০৪:১২
Share:

নোট বাতিল কাণ্ডে এমনিতেই রক্ষণাত্মক শাসক শিবির। তারই মধ্যে আজ বিজেপির অস্বস্তি বাড়ালেন বাবা রামদেব। বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ওই যোগগুরু আজ হঠাৎ বলে বসেন, নোট বাতিলের ফায়দা নিয়ে এক শ্রেণির ব্যাঙ্ককর্মী কয়েকশো কোটি টাকা বানিয়ে ফেলেছেন। এক দুর্নীতি আটকাতে গিয়ে উল্টে প্রায় ৩-৫ লক্ষ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর মন্তব্য, ব্যাঙ্ককর্মীদের একাংশের মাধ্যমে যে এই পরিমাণে দুর্নীতি হতে পারে, তা ধারণা করতে পারেননি খোদ প্রধানমন্ত্রীও।

Advertisement

দলীয় সাংসদদের উষ্মা সামলাতে যখন নাজেহাল অবস্থা নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের, তখন রামদেবের মুখ থেকে এই কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়ে বিজেপি শিবির। কারণ রামদেব এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন। নিবার্চনের আগে ও পরে বিভিন্ন ভাবে মোদীর হাত শক্ত করেছেন তিনি। গত ৮ নভেম্বর নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত শোনার পরেই রামদেব সরাসরি বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে ফোন করে এই সিদ্ধান্তের ঢালাও প্রশংসা করেন। প্রকাশ্যেও সরকারের পাশে দাঁড়ান তিনি। তা ছাড়া, নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপির হয়ে ‘নরম হিন্দুত্ব’-এর মুখ তিনি। বিজেপির কথায় নিজের দল গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন। মাঝে অবশ্য ‘কালো টাকা আসছে না’ বলে মৃদু উষ্মা প্রকাশ করলেও, মোদীর উপরে আস্থা রাখাতেই বিশ্বাসী ছিলেন রামদেব। অন্য দিকে, মোদী জমানাতেই গত দু’-আড়াই বছর ধরে ফু‌লে ফেঁপে উঠেছে রামদেবের ব্যবসা। সরকারি ছাড়পত্র পাওয়া থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মাধ্যমে বিপণন, বিজেপির অন্দরমহলের সঙ্গে নানা ভাবে জড়িত তিনি। সেই রামদেব যদি হঠাৎ বেসুরো বাজতে শুরু করেন, তা হলে তা বিজেপির পক্ষে চরম অস্বস্তির তো বটেই!

তবে রামদেবের মুখ খোলার পিছনে সঙ্ঘের হাত থাকার গন্ধ পাচ্ছেন অনেকে। কারণ, নোট বাতিলের এই সিদ্ধান্তে সঙ্ঘ পরিবারের একটি বড় অংশ আদৌও খুশি নয়। সেই অংশের উস্কানিতেই রামদেব এ ভাবে মুখ খুলেছেন বলে মনে করছেন বিজেপি নেতারা।

Advertisement

কী বলেছেন রামদেব?

সংবাদমাধ্যমের কাছে নোট বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ব্যাঙ্ক কর্মীদের একাংশ ওই সিদ্ধান্ত থেকে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ৩-৫ লক্ষ কোটি টাকা। এমনকী মোদী পর্যন্ত ধরতে পারেননি কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে।’’ এ কথা সত্যি যে, গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে হানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার একাধিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ছাড়াও অসাধু ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক কর্মচারীও। সরকারের উদ্দেশে রামদেবের কটাক্ষ, ‘‘নগদের জোগান দেওয়াটা সমস্যা নয়। আসলে সব টাকা চলে যাচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্তদের কাছে। এই সিদ্ধান্তের রূপায়ণ অনেক ভাল ভাবে করা যেত। আসলে ব্যবস্থাতেই গলদ রয়েছে।’’

‘ব্যবস্থা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রামদেব বোঝাতে চেয়েছেন যে, মোদী এক দুর্নীতি রুখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তা জন্ম দিয়েছে আর এক দুর্নীতির। এই কথা বলে আসলে নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক দক্ষতা ও বোধ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন রামদেব। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যে আরবিআই কর্মীদের উপর ভরসা করে মোদী নিজের পরিকল্পনা রূপায়ণে তৎপর হয়েছিলেন, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সেই নিচের তলার উপরে মোদীর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। যা মোটেই সুখকর নয় বিজেপির কাছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী গোড়া থেকেই বলে আসছেন যে তাঁর লক্ষ্য হল দুর্নীতি রোধ করা। আজ রামদেবের কথা থেকে স্পষ্ট, সেই লক্ষ্য ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement