কলেজের গেটেই গ্রেফতার বাচ্চাবাবু

গ্রেফতার বাচ্চাবাবু। বিহার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান অভিযুক্তকে আজ বিকেলে বৈশালীর ভগবানপুরে বিষুণ রায় কলেজের গেটের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০১৬ ০৮:৪১
Share:

গ্রেফতার বাচ্চাবাবু। বিহার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান অভিযুক্তকে আজ বিকেলে বৈশালীর ভগবানপুরে বিষুণ রায় কলেজের গেটের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

Advertisement

বিশেষ তদন্তকারী দল জানিয়েছে, আগে থেকেই কলেজে বাচ্চাপ্রসাদের আসার খবর ছিল। তাই বিশেষ দলের সদস্যরাও সেখানে হাজির ছিলেন। কলেজের গেটে পৌঁছতেই অধ্যক্ষ বাচ্চাপ্রসাদ ওরফে অমিত কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। বাচ্চাবাবু তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও পুলিশ কথা বলতে দেয়নি। গ্রেফতারের পরে বাচ্চাপ্রসাদকে পটনা পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। আগামী কাল তাঁকে পটনা আদালতে তোলা হবে।

বাচ্চাপ্রসাদের গ্রেফতারি নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে নানা অভিযোগ উঠছিল। কেউ কেউ দাবি করেন, পুলিশ তাঁকে মঙ্গলবারই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে জেরা করে। তার ফাঁকেই এক প্রভাবশালী নেতার ফোন পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই অভিযোগ ওঠায় গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ যায়। এর পরে গত কালই মুজফ্ফরপুর রেঞ্জের আইজি সুনীল কুমার পটনায় রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বাচ্চাবাবুকে আটক করা নিয়ে অভিযোগের সারবত্তা আছে বলে জানিয়েছেন সুনীল। তবে কেন বাচ্চাবাবুকে ধরেও ছেড়ে দেওয়া হল তা এখনও স্পষ্ট নয়। ছেড়ে দেওয়ায় কোনও পুলিশকর্মীর ভূমিকা আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখতে সুনীলকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি প্রমোদকুমার ঠাকুর। ওই রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই গত কাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এর পরেই কলেজের সামনে থেকে গ্রেফতার হন বাচ্চাপ্রসাদ।

গত মঙ্গলবার বিষুণ রায় কলেজে অভিযান চালায় বিশেষ তদন্তকারী দল। সে সময়ে কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আটক করা হয়। অভিযোগ, সেই অভিযানের সময়েই বাচ্চাপ্রসাদকে হাতে পায় পুলিশ। আড়াই ঘণ্টা ধরে জেরা করার পরেও পালিয়ে যান তিনি। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন পটনার ডিএসপি (আইন-শৃঙ্খলা) শিবলি নোমানি। এ ছাড়াও অভিযানের সময়ে ভগবানপুর, বৈশালী, সরাই, গোরোল এবং হাজিপুর থানার ওসিরা বিশাল বাহিনী নিয়ে হাজির ছিলেন। তা সত্ত্বেও কী ভাবে চম্পট দিলেন বাচ্চাবাবু? অভিযোগ, পটনার এক পুলিশ ইনস্পেক্টর বাচ্চাপ্রসাদকে সে সময়ে পালাতে সাহায্য করেছেন।

এখানেই শেষ নয়, মঙ্গলবার ফেরার হওয়ায় বাচ্চাপ্রসাদ কী ভাবে আচমকা কলেজ গেটে এসে হাজির হলেন তা নিয়েও ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা। কোনও নেতার নির্দেশেই তিনি ফিরে এসে ধরা দিয়েছেন কিনা তাও দেখা হচ্ছে।

এ দিকে এ দিন বিহার বিদ্যালয় পরীক্ষা সমিতির অফিসে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল উচ্চ মাধ্যমিকে কলা বিভাগের প্রথমা রুবি রায়ের। তবে তিনি এ দিন হাজির হননি। তবে সমিতি এর পরেও ওই ছাত্রীকে সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে। আগামী ২৫ জুন ফের আসতে বলা হয়েছে তাঁকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement