Rajasthan BJP Leader

‘মোদীকে গালি দেন, কম্বলও নেবেন?’ সংখ্যালঘু মহিলাদের কম্বলদানে নারাজ বিজেপি নেতা, সরিয়ে দিলেন কোণায়!

বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘শুনুন, যাঁরা মোদীকে গালি দেন, তাঁদের কম্বল নেওয়ার অধিকারই নেই। আপনাদের খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু আমার কিছু করার নেই।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৭
Share:

কম্বলদানের সময় বাছবিচারে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ। ছবি: সংগৃহীত।

যাঁদের এ দেশে থাকারই অধিকার নেই, তাঁরা এসেছেন কম্বল নিতে! গরিব এবং দুঃস্থদের কম্বলদান করতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজস্থানের বিজেপি নেতা তথা টঙ্ক-সাওয়াই মাধোপুর লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ সুখবীর সিংহ জৌনপুরিয়া। শুধু বলেই ‘রেহাই’ দেননি। মুসলিম মহিলাদের উঠিয়ে এক কোনায় বসিয়ে দেন। তাঁদের কম্বল না-দিয়েই গাড়িতে উঠে যান। যাওয়ার আগে বলে যান, যাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দোষারোপ করেন, গালি দেন, তাঁদের কম্বল নেওয়ার কোনও অধিকারই নেই।

Advertisement

সুখবীর বিজেপির দু’বারের সাংসদ ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজস্থানের টঙ্ক-সাওয়াই মাধোপুরের সাংসদ থেকেছেন। সম্প্রতি ওই এলাকাতেই একটি কম্বলদান অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন তিনি। একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কম্বলের জন্য অপেক্ষারত মহিলাদের বেছে বেছে দান করছেন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি। কম্বল দেওয়ার আগে মহিলাদের নাম জিজ্ঞাসা করেন তিনি। একজনের নামে ‘সংখ্যালঘু গন্ধ’ পেতেই ফুঁসে ওঠেন সুখবীর। প্রথমে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘নাম কী?’’ তার পর বলেন, ‘‘ও, না। ওদের এখানে থাকার অধিকার নেই। খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু এটাও সত্যি। আমার সোজা কথা।’’ এর পর সংখ্যালঘু মহিলাদের এক দিকে সরে বসতে বলেন বিজেপি নেতা। তাঁরাও তা-ই করেন। পাশে দাঁড়ানো একজনকে সুখবীর বলেন, ‘এ সব আগে বলতে হয় তো।’’

বিজেপি নেতা তার পর উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘শুনুন, যাঁরা মোদীকে গালি দেন, তাঁদের কম্বল নেওয়ার অধিকার নেই। আপনাদের খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু আমার কিছু করার নেই।’’

Advertisement

প্রাক্তন সাংসদের এ-হেন কাণ্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন কয়েক জন। কেউ কেউ প্রশ্ন করেছিলেন, এ ভাবে ভেদাভেদ করে দান কি একজন নেতার সাজে?’’ সুখবীরও সোজাসাপটা জানিয়ে দেন, এই কম্বলগুলো সরকারি ত্রাণ নয়। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দান করছেন। তাই কাকে দেবেন, তিনি-ই ঠিক করবেন। ‘‘খারাপ বলো, ভাল বলো, এটাই... আমার ইচ্ছা, আমি কাকে কম্বল দেব’’— বলেই গাড়িতে উঠে চলে যান তিনি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ হরিশচন্দ্র মীনা প্রাক্তন সাংসদের ভিডিয়ো পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, এমন সব কাণ্ড সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর। বিজেপি নেতার কম্বল না-দেওয়া এবং মন্তব্যের নিন্দা করেন তিনি। কংগ্রেস জানিয়েছে, রাজস্থান বিধানসভায় উত্থাপন করা হবে বিষয়টি। তবে রাজস্থান বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement