(বাঁ দিকে) শশী তারুর এবং রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
কংগ্রেস হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠকে গরহাজির থাকলেন শশী তারুর। শুক্রবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেরল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। ওই বৈঠকে তারুর থাকবেন, কি থাকবেন না— তা নিয়ে গুঞ্জন চলছিলই। দিনের শেষে জানা যাচ্ছে, বৈঠক ‘এড়িয়েই’ গিয়েছেন তিনি।
চলতি বছরেই কেরলে বিধানসভা ভোট রয়েছে। ওই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই কেরল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শুক্রবার বৈঠক ডেকেছিলেন রাহুল-খড়্গেরা। সেখানে তারুরকেও ডাকা হয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে রাহুলের কেরল সফরের সময়ের কিছু ঘটনায় তিরুঅনন্তপুরমের চার বারের সাংসদ ‘অসন্তুষ্ট’ ছিলেন বলে খবর ছড়ায়। প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউই কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের অসন্তোষ গোপন রাখেননি তারুর।
অতীতেও তারুরের বিভিন্ন মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে কংগ্রেসকে। তাতে দলীয় নেতাদের একাংশের সঙ্গে তারুরের সম্পর্কে তিক্ততা এলেও দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেননি কংগ্রেস সাংসদ। দলও তাঁকে ছেঁটে দেয়নি। গত সপ্তাহে কোচিতে রাহুলের সভা ছিল। সেখানে বক্তৃতা করেন তারুরও। জানা যাচ্ছে, ওই সভায় তারুরকে বলা হয়েছিল, তাঁর বক্তৃতার পরেই রাহুলের বক্তৃতা শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তারুর এবং রাহুলের মাঝে আরও বেশ কয়েক জন নেতা বক্তৃতা করেন। কেন এমনটা হয়েছে, তা নিয়েও তারুর অসন্তুষ্ট বলে সূত্রের দাবি। তা ছাড়া, বক্তৃতার সময়ে তারুরের নামোল্লেখ করেননি রাহুল। তা নিয়েও সাংসদ কিছুটা ‘অসন্তুষ্ট’ বলে সূত্রের খবর।
এই সবের মধ্যেই শুক্রবার দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন তারুর। তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদের ঘনিষ্ঠ সূত্রে এনডিটিভি জানায়, শুক্রবার কোঝিকোড়ে এক সাহিত্য উৎসবে যোগ দেওয়ার কথা তারুরের। প্রথমে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিত ওই কর্মসূচির কারণে দলীয় বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না তিনি। ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু পরে জানা যায়, ব্যস্ততার কারণে ভার্চুয়ালিও বৈঠকে থাকতে পারেননি সাংসদ। অপর একটি সূত্রে ‘ইন্ডিয়া টু়ডে’ জানাচ্ছে, বৈঠকে যোগ দিতে না পারার বিষয়টি দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছিলেন তারুর। হাইকমান্ডের থেকে সেই মতো অনুমতিও নিয়েছিলেন তিনি।