—প্রতীকী চিত্র।
উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে রামমন্দিরে প্রণামীর বিপুল টাকা লুট-সহ একাধিক অনিয়ম নিয়ে ফের সুর চড়াল লোকসভার প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ও উত্তরপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দল এসপি। বিষয়টি নিয়ে এমনিতেই যথেষ্ট চাপে পড়েছে বিজেপি। এই অবস্থায় কংগ্রেস রামমন্দিরে দানের অর্থ লুট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতাকে প্রশ্ন করে বিজেপির চাপ আরও বাড়িয়েছে। শনিবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অখিলেশ প্রতাপ সিংহ বলেন, ‘‘গোটা দেশ, বিশেষ করে সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ জানতে চাইছেন, হাজার হাজার কোটি টাকার দান কে চুরি করল? এ বিষয়ে সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উত্তর আশা করেন তাঁরা।’’ একই সঙ্গে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তোলার পাশাপাশি মোদীকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘‘মোদী সরকারের অধীনেই এই ট্রাস্ট গঠিত হয়েছিল এবং যাঁদের মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের ওই সরকারের আমলেই বেছে নেওয়া হয়। এখন যখন সেই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ উঠেছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন?’’
রামমন্দিরে প্রণামীর টাকা দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরাও। তিনি বলেন, ‘‘সারা দেশের মানুষ, যাঁরা বিশ্বাস করেন এবং যাঁদের ভক্তি আছে, তাঁরা অনুদান দিয়েছিলেন, আর এখন সেই অর্থ চুরি হয়ে গেছে! আমার মনে হয়, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এটি লজ্জাজনকও বটে।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মানুষ অনুদান দিয়েছেন, বহু নারী তাঁদের সঞ্চয় থেকে দিয়েছেন, নিজেদের ঘর থেকে দিয়েছেন, দরিদ্র মানুষও দিয়েছেন।.. এই অর্থ দেশের সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।’’
বস্তুত রামমন্দির নির্মাণের গোড়া থেকেই মন্দির সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণ ও কেনাবেচা নিয়ে বিপুল দুর্নীতি, এমনকি ভারতীয় সেনার জমি বেহাত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও বিজেপি নেতৃত্ব কোনও দিনই তাতে কান দেননি। বিষয়টি তুলে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের কোনও কর্মরত বিচারপতির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই বিপুল দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে মন্দিরের অছি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি তুলে কংগ্রেসের দাবি, মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্তদের উপরে ভক্তদের আস্থা এতটাই কমতে শুরু করেছে যে, আগে যেখানে প্রতি দিন ১০-১৫ লক্ষ টাকা দান আসত, সেখানে এখন তা কমে ৮০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে!
চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় বিপাকে বিজেপি। এমনিতেই গত লোকসভা ভোটে রামমন্দির যে লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, সেখানে বিপুল ভোটে হেরেছিল বিজেপি। তার উপর ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে ভিএইচপি-সহ বিজেপি-ঘনিষ্ঠ একাধিক দল ও নেতার যোগ থাকার অভিযোগ ওঠায় চাপ বেড়েছে তাদের। এই অবস্থায় শনিবার শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট চলতি বিতর্কে প্রথম মুখ খুলে জানিয়েছে, অছি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং এবং সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। যদিও আসলে চম্পত গত কালই পদত্যাগ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও মন্দির সংলগ্ন জমি আত্মসাৎ-সহ নানা অভিযোগ উঠেছিল।
আসরে নেমেছেন এসপি-প্রধান অখিলেশ যাদবও। রাজ্যের হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক এবং রামমন্দির ঘিরে আবেগ মাথায় রেখে এক এক্স-বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘‘নতুন সরকার গঠন করে অযোধ্যাকে এমন একটি আদর্শ ধর্মীয় নগরী হিসেবে গড়ে তুলব, যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা সত্যিকারের আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। ভগবানের আশীর্বাদে আমরা অযোধ্যার চিরন্তন মর্যাদাকে বিশ্বাস, ভক্তি, অটুট আস্থা এবং আন্তরিক অনুভূতির ‘সিয়ারাম ধাম’ হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত ও আরওসমৃদ্ধ করব।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে