Bhagirath Choudhary

কৃষি প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির নালিশ, আড়ালে কি ‘কামরাজ প্ল্যান’

প্রথমে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বিরুদ্ধে উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরে উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণার আগে সেখানে বিপুল পরিমাণে জমি কিনে রাখার অভিযোগ উঠেছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৭:৫৯
Share:

ভাগীরথ চৌধরি। — ফাইল চিত্র।

বিজেপির সাংগঠনিক এবং মোদী সরকারের মন্ত্রিসভার রদবদলে বেশ কিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপরে কোপ পড়বে বলে জল্পনা বাড়ছে। সেই সঙ্গে একের পর এক বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও প্রকাশ্যে আসছে।

প্রথমে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বিরুদ্ধে উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরে উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণার আগে সেখানে বিপুল পরিমাণে জমি কিনে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। এ বার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভাগীরথ চৌধরির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের খামারে শসা চাষের জন্য তাঁর নিজের মন্ত্রক থেকেই প্রায় ১ কোটি টাকার ভর্তুকি নিয়েছেন। রাজস্থানের অজমেঢ়ের সাংসদ ভাগীরথ কৃষি মন্ত্রকের অধীন জাতীয় উদ্যানপালন পর্ষদের উপাধ্যক্ষ। সেই পর্ষদই তাঁর শসার খামারের জন্য ৯৯ লক্ষ ৬০ হাজার ভর্তুকি মঞ্জুর করেছে।

শিবরাজ সিংহ চৌহানকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে মোহন যাদবকে আনা হয়েছিল। শিবরাজ এখন কেন্দ্রের কৃষিমন্ত্রী। তাঁর মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভাগীরথ। ভাগীরথের যুক্তি, তিনি কিছুই লুকোননি। তাঁর চাষআবাদ রয়েছে। নিয়ম মেনেই তিনি ভর্তুকি পেয়েছেন। কিন্তু শিবরাজ দু’টি ঘটনা নিয়েই মন্তব্য করতে চাননি। প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপির নেতাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলেই কি একের পর এক দুর্নীতি-অনিয়ম প্রকাশ্যে আসছে?

কংগ্রেস নেতারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রিসভা ও বিজেপির সংগঠনে বড়সড় রদবদলের ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলটের অভিযোগ, ‘‘মোহন যাদব থেকে ভাগীরথ চৌধরিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। কিন্তু কেউ কোনও দায় নিচ্ছেন না।’’ দিল্লির প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়ের উপাধ্যক্ষ এ সূর্য প্রকাশ সম্প্রতি এক নিবন্ধে লিখেছেন, বিজেপির সংগঠন ও কেন্দ্রীয় সরকারে ক্লান্তি চলে এসেছে। অনেক মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে অহঙ্কার চলে এসেছে। এর সমাধানে প্রধানমন্ত্রী কি ‘কামরাজ প্ল্যান’ কার্যকর করতে পারবেন? যেখানে প্রবীণ বা বহু দিন পদে থাকা নেতাদের সরিয়ে সংগঠন ও সরকারকে চাঙ্গা করতে নতুন রক্ত আনা হবে?

কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির প্রশ্ন, ‘‘সূর্য প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর বাছাই। এর আগে তিনি প্রসার ভারতীর প্রধান ছিলেন। তিনি ওজনদার নেতাদের সরানোর কথা বলছেন। জওহরলাল নেহরুর আমলে কে কামরাজের পরিকল্পনায় প্রবীণ নেতাদের সরানোহয়েছিল। সূর্য প্রকাশ সেই কামরাজ প্ল্যানের কথা বলছেন। যাতে সরকার ও সংগঠনে ক্লান্তি, অহঙ্কার দূর হয়। এটা কি প্রধানমন্ত্রীরই কৌশল?” এর আগে মোদী সরকার থেকে এক ঝটকায় প্রকাশ জাভড়েকর,রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো প্রবীণ নেতা, রাজ্যবর্ধন রাঠৌর, বাবুল সুপ্রিয়দের মতো নবীন নেতাদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল নিয়ে জল্পনা চলছে। বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাইছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের দু’বার প্রশংসা করেছেন। বিজেপি নেতারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দু’বছর আগে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে মনোহর লাল খট্টরকে সরানোর আগের দিনই প্রধানমন্ত্রী তাঁরপ্রশংসা করেছিলেন!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন