—প্রতীকী চিত্র।
কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থা এনসিইআরটি (ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং)-এর তৈরি পাঠ্যবইয়ে বিচার বিভাগে দুর্নীতি নিয়ে ছিল অধ্যায়। তার জেরে কড়া পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। পরে এনসিইআরটি-র তরফে ত্রুটির কথা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করা হয়। জানানো হয়, বইটির বিক্রি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’ নিয়ে একটি অধ্যায় ছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, ‘‘অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিচার বিভাগে দুর্নীতির কথা পড়ানো হচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়।’’ তিনি সমাজমাধ্যমে এক পোস্টেও বলেন, ‘‘মন্ত্রী, রাজনীতিক, আমলা, তদন্তকারী সংস্থা ও সরকারের বড় মাপের দুর্নীতির কথা নেই কেন? সেগুলিকে কার্পেটের নীচে ঢুকিয়ে রাখতে হবে।’’ জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘আমরা এই বিষয়টি জানি। বার ও বেঞ্চ এ নিয়ে ক্ষুব্ধ। ক্ষুব্ধ হাই কোর্টের সব বিচারপতিরা। আমি এ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ করুক। প্রতিষ্ঠানের অবমাননা কাউকেই করতে দেব না। আইন আইনেরপথে চলবে।’’
আর এক প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘কেবল বিচার বিভাগকে বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতি রয়েছে। কিন্তু কেবল বিচার বিভাগীয় দুর্নীতিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।’’ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘‘এই বইটা সংবিধানের মূল কাঠামোরই বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’’
ঘটনাচক্রে সম্প্রতি আইন মন্ত্রক জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৭,৫২৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে প্রধান বিচারপতির দফতরে। সংসদে এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রক জানিয়েছে, উচ্চ বিচার বিভাগের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মোকাবিলা বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয়। বস্তুত এনসিইআরটি-র বইটির অধ্যায়েও বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই বলেন, ‘‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি ও নীতি না মেনে চলার নজির মানুষের আস্থার উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সমস্যাগুলি মেটাতে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ করাই হল আস্থা ফের বাড়ানোর পথ।’’ গাভাইয়ের উক্তিও ওই অধ্যায়ে ফের যোগ করা হয়েছে।
পরে এনসিইআরটি-র তরফে জানানো হয়, কিছু অবাঞ্ছিত বক্তব্য ভুলবশত বিচার বিভাগ সংক্রান্ত চার নম্বর অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরেরও নজরে এসেছে। ফলে বইটির বিক্রি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এনসিইআরটি বিচার বিভাগকে সম্মান করে এবং মনে করে বিচার বিভাগ সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের রক্ষক। পড়ুয়াদের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে জ্ঞান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে শ্রদ্ধা বাড়ানোই এনসিইআরটি-র উদ্দেশ্য। এই ভুল একেবারেই অনিচ্ছাকৃত ও এ জন্য এনসিইআরটি দুঃখিত। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরে বইটি ফের লিখে পড়ুয়াদের সরবরাহ করা হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে