কেরল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন ও তাঁর স্ত্রী পি কে শ্যামলা। ফাইল চিত্র।
ক্ষমতাসীন দলে মাঝেমধ্যেই মাথা চাড়া দেয় নবীন-প্রবীণের দ্বন্দ্ব। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পরে এ বার কেরল সিপিএমে দেখা দিল সেই টানাপডেন। তবে সমস্যা সামাল দিয়ে পুরনো-নতুনে ভারসাম্য রেখেই বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে চাইছেন সিপিএম নেতৃত্ব।
দেশের একমাত্র বাম সরকারকে রক্ষা করার লক্ষ্যে কেরলে এ বার মরিয়া লড়াইয়ে নামছে সিপিএম। টানা দু’বার বিধায়ক থাকলে আর তাঁকে প্রার্থী করা হবে না, ২০২১ সালে এমন নীতি নিয়েছিল শাসক দল। সে বার ভোটে সাফল্যও এসেছিল। কেরলে পাঁচ বছর অন্তর বদলের ধারায় ব্যতিক্রম ঘটিয়ে পরপর দু’বার ক্ষমতায় এসেছিল পিনারাই বিজয়নের সরকার। তবে তৃতীয় বার সরকার গড়ার নির্বাচনী যুদ্ধে নেমে দু’দফার মেয়াদ বেঁধে দেওয়ার নীতি শিথিল করেছে সিপিএম। যে আসনে জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে ধরা হচ্ছে, সেখানে নতুন মুখ আনা হচ্ছে। আর যেখানে লড়াই তুলনায় কঠিন, সেখানে ভরসা রাখা হচ্ছে পুরনো মুখেই। প্রশ্ন ও বিরোধ দেখা দিয়েছে এই সূত্রেই।
সিপিএম সূত্রের খবর, টমাস আইজ়্যাক, এম এম মানি, জি সুধাকরনের মতো কয়েক জন বর্ষীয়ান নেতাকে প্রার্থী তালিকায় রাখা হচ্ছে না। মানি ও সুধাকরনের জায়গায় নতুন নাম বেছে নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটিকে। রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আইজ়্যাককে গত বার প্রার্থী করা হয়নি দু’দফার ঊর্ধ্বসীমা মেনে। একটি সূত্রের খবর, এ বারের ভোটের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় রেখে আইজ়্যাককে ভোটের ময়দানে ফেরানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন স্বয়ং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। কিন্তু আলপ্পুঝা জেলার ৯টি কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীদের যে তালিকা দলের জেলা কমিটি পাঠিয়েছে, সেখানে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর নাম নেই। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীও সেই তালিকায় পরিবর্তনের কথা বলেনি। দলের আর এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ, প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজাকে দু’বারের মেয়াদ-সীমা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে ঠিকই, তবে তাঁর বর্তমান কেন্দ্র কান্নুর জেলার মাট্টানুরের বদলে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে পুরনো কেন্দ্র পেরাভুর থেকে। ওই কেন্দ্রে গত তিন বারই জিতেছেন কংগ্রেসের সানি জোসেফ, যিনি এখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
তবে এর চেয়েও বেশি বিতর্ক বেধেছে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের ছেড়ে দেওয়া বিধানসভা আসনে তাঁর স্ত্রীকে প্রার্থী করার প্রস্তাব ঘিরে! রাজ্য সম্পাদক হয়ে যাওয়ায় গোবিন্দন এ বার আর ভোটে লড়ছেন না। তাঁর কেন্দ্র কান্নুর জেলারই তালিপরম্বা থেকে গোবিন্দনের স্ত্রী, মহিলা সংগঠনের নেত্রী পি কে শ্যামলাকে প্রার্থী করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সিপিএমের রাজ্য কমিটি। আরও ‘যোগ্য’ প্রার্থী থাকতেও রাজ্য সম্পাদকের স্ত্রীকেই কেন টিকিট দিতে হবে, সেই প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরেই। সূত্রের খবর, অসন্তোষের জেরে বিধানসভা কমিটির ফের বৈঠকও ডাকা হয়েছে।
অন্য দিকে, তিরুঅনন্তপুরম পুর-নিগম এ বার বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জেতার পরে সেখানে কোনও ‘ঝুঁকি’ নিতে চাইছেন না সিপিএম নেতৃত্ব। জেলায় দলের ১০ জন বর্তমান বিধায়ককেই ফের প্রার্থী করা হবে। ভোটে দাঁড়াবেন বলে তিরুঅনন্তপুরম জেলা সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বিধায়ক ভি জয়। তাঁর পরিবর্তে ডিওয়াইএফআইয়ের সর্বভারতীয় সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ এ এ রহিমকে জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যের কথায়, ‘‘কিছু অসন্তোষ থাকতে পারে। তবে পুরনো ও নতুন মিলিয়ে সম্ভাব্য সেরা প্রার্থীদেরই ভোটে নামানো হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে