Siddaramaiah

মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরের দিনই দিল্লি গিয়ে সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ সিদ্দার, জানালেন ইচ্ছার কথাও

কংগ্রেস হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার লোকভবনে গিয়ে কর্নাটকের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৬:৪৫
Share:

(বাঁ দিকে) সিদ্দারামাইয়া এবং রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

দিল্লিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধী এব‌ং কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সঙ্গে দেখা করলেন কর্নাটকের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (যিনি কর্নাটকের রাজ্য রাজনীতিতে সিদ্দা নামেই পরিচিত)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুত্র যতীন্দ্র।

Advertisement

একটি সূত্রের দাবি, সিদ্দারামাইয়া পুত্র যতীন্দ্রকে কর্নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কোনও দফতরের মন্ত্রী করার প্রস্তাব দিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় আরও কয়েক জন ঘনিষ্ঠ বিধায়ককে অন্তর্ভুক্ত করার আর্জিও জানিয়েছেন। কংগ্রেস হাইকমান্ড সিদ্দারামাইয়ার প্রস্তাব কতটা মানে, তা-ই এখন দেখার।

কংগ্রেস হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার লোকভবনে গিয়ে কর্নাটকের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। তবে রাজ্যপাল রাজ্যপাল থাওরচন্দ্র গহলৌত লোকভবনে না-থাকায় বৃহস্পতিবার তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়নি। শুক্রবার তা গ্রহণ করেছেন রাজ্যপাল।

Advertisement

সিদ্দারামাইয়া বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকছেন। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘জাতীয় রাজনীতি নয়, আমার মূল মনোযোগ রাজ্য রাজনীতিতেই থাকবে।’’ কংগ্রেস সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিনিময়ে সিদ্দারামাইয়াকে হাইকমান্ডের তরফে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি (ঘটনাচক্রে, যে পদে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পদে সিদ্দারামাইয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি ডিকে শিবকুমার) অথবা রাজ্যসভা সাংসদের পদ বেছে নিতে বলা হয়েছিল। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন না তিনি।

সিদ্দারামাইয়া কর্নাটক রাজনীতির প্রভাবশালী অনগ্রসর (ওবিসি) কুরুবা জনগোষ্ঠীর নেতা। বিধানসভা ভোটের দু’বছর আগে ওবিসি ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সিদ্দারামাইয়া নিজেও রাজ্য রাজনীতিতে থাকার কথা বলে সেই জল্পনাই উস্কে দিয়েছেন। এ ছাড়া সিদ্দারামাইয়ার পুত্র যতীন্দ্র কর্নাটক বিধান পরিষদের সদস্য। পরবর্তী মন্ত্রিসভায় তাঁর ঠাঁই পাওয়া কার্যত নিশ্চিত বলেই দলের একটি সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাসে কর্নাটকে বিধানসভা ভোটে জয়ের পরে সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করার সময় কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব আশ্বাস দিয়েছিলেন, আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রী করা হবে বিদায়ী মন্ত্রিসভার উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারকে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্ব সমান ভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে দুই নেতার মধ্যে। গত অক্টোবরে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আড়াই বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন সিদ্দারামাইয়া। তার পরেই সেই ‘প্রতিশ্রুতির সম্মান’ রাখার দাবি তুলেছিলেন শিবকুমার-ঘনিষ্ঠেরা। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুই নেতার প্রাতরাশ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেন সিদ্দারামাইয়া।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement