বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে গীতা। ছবি: প্রেম সিংহ।
বড় ধুমধাম করে দেশে ফিরল গীতা। কিন্তু, প্রথমেই ছন্দপতন! পুরনো পরিবারকে চিনতে পারল না সে। বছর ১৫ আগে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিল ছোট্ট মেয়েটি। দীর্ঘ দিন সে দেশে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে থাকার পর দু’দেশের তত্পরতায় সোমবার সকালেই দেশে ফিরেছে সে। কিন্তু, বিহারের যে পরিবার তাকে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া মেয়ে বলে দাবি করেছিল, গীতা এ দিন তাঁদের চিনতে পারেনি।
সংবাদ মাধ্যমে গীতার ছবি দেখে তাকে নিজের বড় মেয়ে বলে দাবি করেছিলেন বিহারের বাসিন্দা জনার্দন মাহাতো। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, মেয়ের দাবিদার হিসেবে তাঁকে ডিএনএ পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। সেই মতো রাজিও হয়েছিলেন জনার্দন। কিন্তু, এ দিন দেশে ফিরে মেয়ে পরিবারের লোকজনকে না চিনতে পারায় মোটেও হতাশ নন তিনি। এত বছর পর ছোট্ট সেই মেয়েটি যে তার পুরনো দুনিয়াকে মনে করতে পারবে না, সেটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছে মাহাতো পরিবার।
পরিবারকে চিনতে না পারলেও সে যে এ দেশের মেয়ে তাতে কোনও সন্দেহ নেই বিদেশ মন্ত্রকের। আর সে কারণেই গীতা এ দেশেই থাকবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এ দিন দুপুরে গীতাকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মাহাতো দম্পতির সঙ্গে গীতা দেখা করেছে। কিন্তু, সে তাদের চিনতে পারেনি। ওঁদের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এলেই সবটা বোঝা যাবে।’’ পাশাপাশি তিনি জানান, যে-ই গীতাকে নিজের মেয়ে বলে দাবি করুন না কেন, তাঁকে ডিএনএ পরীক্ষায় উতরাতে হবে।
দেখুন, গীতার ঘরে ফেরার মুহূর্তের গ্যালারি
এ দিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ দিল্লি এসে পৌঁছয় গীতা। ঘরের মেয়েকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন বহু মানুষ। সেই দলে ছিলেন মাহাতো দম্পতিও। কিন্তু, গীতা তাঁদের চিনতে পারেনি। এর পর সুষমা বলেন, ‘‘আমরা ডিএনএ পরীক্ষার ফলের জন্য অপেক্ষা করব। কেননা, মাহাতো দম্পতির সঙ্গে গীতা তাঁদের বাড়িতে যেতে নারাজ। আপাতত সে ইনদওরের একটি বাড়িতে থাকবে।’’
এই সংক্রান্ত আরও খবর
১৫ বছর পর পাকিস্তান থেকে ফিরল এ দেশের ‘মুন্নি’ গীতা