—ফাইল চিত্র।
গত সাত বছরে সমস্যা হয়নি। কিন্তু স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আসতেই ডেপুটি স্পিকার নিয়ে অস্বস্তির মুখে সরকার। প্রশ্ন উঠেছে, যখন স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এসেছে, তখন স্পিকারের নিয়োগ করা প্যানেলের সদস্য জগদম্বিকা পাল কী ভাবে সেই স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব সংক্রান্ত আলোচনা ও সভা পরিচালনা করার দায়িত্ব পেতে পারেন? বিরোধীদের কটাক্ষ, কেবল অহংকারের কারণে দু’শোর বেশি বিরোধী থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়া হবে না বলে নিয়োগ এড়িয়ে গিয়েছে সরকার। আর তা করতে গিয়ে সাত বছরের মাথায় পালে বাঘ পড়েছে।
এর আগে তিন বার যখন স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এসেছে, তখন সভা পরিচালনা করেছিলেন তৎকালীন ডেপুটি স্পিকারেরা। নরেন্দ্র মোদী সরকার আসার আগে পর্যন্ত লোকসভার স্পিকার শাসক শিবির থেকে এবং ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদের থেকে নিযুক্ত হতেন। কিন্তু ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পরে বিরোধীদের পরিবর্তে এনডিএ-র শরিক এডিএমকে সাংসদ এম থাম্বিদুরাইকে ওই পদ দেওয়া হয়। ২০১৯ সাল থেকে পদটি খালিই রয়েছে। আজকের বিতর্ক দেখে শাসক শিবির মনে করছে, ডেপুটি স্পিকার পদে কেউ থাকলে বিতর্ক
এড়ানো যেত।
এ যাবৎ অবশ্য ডেপুটি স্পিকার পদ খালি থাকলেও সভা পরিচালনায় বিশেষ সমস্যা হয়নি। আজ স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এমআইএম দলের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। তিনি বলেন, স্পিকারের পদে আসীন জগদম্বিকা পালকে নিয়োগ করেছেন, যাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা উঠেছে, সেই ওম বিড়লা। তাই জগদম্বিকা কোনও ভাবেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে সভা পরিচালনা করতে
পারেন না।
কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের প্রশ্ন, স্পিকার প্যানেলের সব সদস্যের মধ্যে জগদম্বিকাকে কে দায়িত্ব দিলেন সভা পরিচালনা করার? গগৈ বলেন, ‘‘নিজের বিরুদ্ধে আসা অনাস্থায় যেখানে স্পিকার নিজে সভাপতিত্ব করতে পারেন না, সেখানে তিনি অন্য কাউকে কোন অধিকারে নিয়োগ করেন?’’ কংগ্রেসের আর এক সাংসদ কে সি বেণুগোপাল বলেন, ‘‘সাত বছর ডেপুটি স্পিকার পদ খালি রেখে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করেছে মোদী সরকার।’’
জবাবে জগদম্বিকা জানান, যেহেতু অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার আগে স্পিকার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই তিনি সভা পরিচালনা করতে পারেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হস্তক্ষেপ করে বলেন, ‘‘স্পিকার ব্যক্তিগত ভাবে সভা পরিচালনা না করলেও স্পিকারের পদ বা দফতর শূন্য হয়ে যায় না।’’ শাসক শিবিরের যুক্তি, লোকসভা ভেঙে গেলেও স্পিকারের ক্ষমতা বজায় থাকে এবং নতুন সরকারের নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের ক্ষমতা থাকে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে