(বাঁ দিকে) ব্যাট হাতে অপেক্ষায় বিহানের মা। (ডান) দুর্ঘটনাগ্রস্ত সেই স্কুলবাস। ছবি: সংগৃহীত
স্কুল থেকে ফিরেই ব্যাট নিয়ে পাশের মাঠে চলে যেত বছর এগারোর বিহান। ক্রিকেট ছিল ওর সবচেয়ে প্রিয় খেলা। তাই স্কুল থেকে ফিরে গ্রোগাসে খেয়েই মাঠে ছুটত। কিন্তু সেই ছকবাঁধা রুটিনে ছেদ পড়ল মঙ্গলবার। বিহান ফিরে এসেছে ঠিকই। কিন্তু আর খেলতে যায়নি। মাকে বলেওনি, ‘‘ব্যাটটা দাও, এখনই খেলতে যাব।’’
মঙ্গলবার মুম্বইয়ে ঝড়বৃষ্টিতে বিহানের স্কুলবাসের উপর ভেঙে পড়েছিল বিশাল একটা গাছ। দুমড়ে যায় বাসটি। আর ভিতরেই আটকে পড়ে মৃত্যু হয় বিহান শ্রীবাস্তবের। আহত হয়েছে আরও চার পড়ুয়া। বিকেলের দিকে বিহানের নিথর দেহ ফেরে বাড়িতে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে ‘পাথর’ হয়ে গিয়েছিলেন মা। হাতে ধরা বিহানের সেই পছন্দের ব্যাটটা। বার বার বিলাপ করে যাচ্ছিলেন, ‘‘বিহান তুই কখন আসবি। খেলতে যাবি না। দেখ তোর ব্যাট নিয়ে আমি বসে আছি। খেলতে যেতে হবে তো!’’ বিহানের মা জুহি শ্রীবাস্তবকে তখন পড়শিরা সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।
বিহানদের পড়শি রাজি মলহোত্র জানিয়েছেন, খুব মিশুকে এবং বুদ্ধিদীপ্ত ছেলে ছিল বিহান। তাঁর ছেলে দেবের কাছে প্রতি দিনই আসত। ওর কাছে শিখত কী ভাবে ব্যাট ধরতে হয়, কী ভাবে বল মারতে হয়। এ কথা বলতে বলতে রাজির চোখের কোনা তখন ভিজে উঠেছিল। তিনি বলেন, ‘‘একমাত্র জুহিই জানে ওর মধ্যে কী উথালপাথাল চলছে। বিহান আমাদের বাড়িতে যখন আসত, তখন বলত, কাকিমা, আমি একজন বড় মাপের ক্রিকেটার হতে চাই। দেবকে বলত দাদা, আমাকে ক্রিকেট শেখাবে?’’
আরও এক পড়শি বলেন, ‘‘বিহানই ছিল জুহির জগৎ। সব সময় ওকে নিয়ে চিন্তা করত। যখনই বিহান বাইরে যেত, ভিডিয়ো কল করে খোঁজ নিত। বিহান ক্রিকেট ভালবাসত। স্কুল থেকে ফিরেই খেলতে যেত। সেই ছেলের সঙ্গে এমন বড় ঘটনা ঘটে যাবে ভাবতে পারছি না।’’ মঙ্গলবার বিকেলে স্কুলশেষে বাসে করে ফিরছিল বিহান-সহ ১৩ পড়ুয়া। বাসের উপর গাছ পড়ে পাঁচ পড়ুয়া আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিহানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।