(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং লুলা দ্য সিলভা (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তিতে সিলমোহর পড়ে দিয়েছে। আগামী মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ভারত সফরের সময়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তার মধ্যে আজ হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট লুইজ় ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার বৈঠকের পর বিরল খনিজ সংক্রান্ত চুক্তিতে সইকরল দু’দেশ।
নয়াদিল্লির দাবি, শুধু বাণিজ্যিক ভাবে নয়, দ্বিপাক্ষিক এই চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে ভূকৌশলগত রাজনীতিতে অনেকটাই এগিয়ে গেল ভারত। চিন যে ক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা আদায় করছে তাতে আগামী কয়েক বছরে ভারত উল্লেখযোগ্য ভাবে ছাপ রাখতে পারবে বলেই দাবি সেবা তীর্থের (সাউথ ব্লক)। প্রসঙ্গত, বিরল খনিজের ভাঁড়ারের পরিমাণগত হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ব্রাজ়িল।
মোদী আজ বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত যে চুক্তি হয়েছে, তা স্থিতিশীল বন্টন ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। এটা পারস্পরিক বিশ্বাস এবং কৌশলগত বোঝাপড়ার দারুণ উদাহরণ।” বিদেশ মন্ত্রক জানাচ্ছে, একে একে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল খনিজ নিয়ে সহযোগিতার চুক্তি করতে চলেছে ভারত, সফলভাবেই। লক্ষ্য, বিরল ধাতুর ভাঁড়ার চিনের উপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানো। পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে নিজেকে শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে গিয়ে ভূরাজনীতিতে দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ানোও উদ্দেশ্য দিল্লির। উচ্চপ্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত জরুরি এই বিরল খনিজের উপর চিনের একচেটিয়া অধিকার বিশ্বের কাছে উদ্বেগের তো বটেই, ভারতের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির কাছে তা রীতিমতো চিন্তার।
মোদী গত জুলাই মাসে ব্রাজ়িল সফরে গিয়েছিলেন। তখনই প্রতিরক্ষা, শক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করার বিষয়ে পাকা কথা হয়েছিল। পরস্পরের উপর থেকে শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য বাধা কমানোর বিষয়ে সহমতও হন মোদী এবং লুলা। আমেরিকার শুল্কবাণে একই ভাবে আহত হয়েছিল ভারত এবং ব্রাজ়িল — ব্রিকস-এর দুই সদস্য রাষ্ট্র। সেই যৌথ ক্ষতির জায়গা থেকে বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একসঙ্গে চলার তাগিদ দেখা গিয়েছিল।
আজ বৈঠকের পর মোদীর মতামত, ভারত এবং ব্রাজ়িল একসঙ্গে হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর আওয়াজ আরও শক্তিশালী হয়। তাঁর কথায়, “আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত ও ব্রাজ়িলের অংশীদারি বরাবরই শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অগ্রাধিকার এবং আকাঙ্ক্ষাগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাব। যখন ভারত ও ব্রাজ়িল একসঙ্গে কাজ করে, তখন ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।” সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সরব মোদী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে সমস্ত সমস্যারসমাধান আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সন্ত্রাসবাদ এবং তার সমর্থকরা যে গোটা মানবতার শত্রু, এই বিষয়ে ভারত ও ব্রাজ়িল একমত। আমরা এটাও মানি যে আমাদের সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার জরুরি। এই লক্ষ্যেও একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে