মুখোমুখি: ফুলবাড়িতে যৌথ মহড়া। নিজস্ব চিত্র
হাততালিতে কার জোর কত বেশি নিয়ে একটা যেন প্রতিযোগিতা হয়ে গেল শিলিগুড়ির অদূরে ফুলবাড়িতে। শুক্রবার বিকালে ফুলবাড়ির ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে যৌথ মহড়া উপলক্ষে দু-দেশের বাসিন্দাদের মুহুর্মুহু হাততালিতে উৎসবের মেজাজ দেখা গেল ভারত বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টে।
এ দিন সকাল থেকেই যৌথ মহড়ার প্রথম দিনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সাজোসাজো রব পড়ে যায়। জিরো পয়েন্টের প্রায় ৫০০ মিটার দূর থেকে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তের ওপারেও একই দৃশ্য দেখা যায়। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বিএসএফের আইজি রাজেশ মিশ্র এবং বর্ডার গার্ড অফ বাংলাদেশের (বিজিবি) উত্তর পশ্চিম রিজিওনের মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম অনুষ্ঠান স্থলে আসেন। দুই দেশের পতাকার রঙের বেলুন উড়িয়ে, ফলক উন্মোচন করে মহড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন দুই পারের অনেকেই।
বাসিন্দাদের মতো বিএসএফ অফিসারেরাও মহড়া নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী। বাহিনীর উত্তরবঙ্গের আইজি জানান, ‘‘সীমান্তে যৌথ টহলদারিতে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে। ফুলবাড়িতে মহড়া শুরু হওয়ার ফলে এলাকার পর্যটনের প্রসার হবে। ঢাকার একটি বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে ঐকমত্যে আসতে পেরেছি।’’
একই ভাবে আশাবাদী বিজিবি-র সাফিনুল ইসলামও। তিনি জানান, যৌথ মহড়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।
ফুলবাড়িতে জিরো পয়েন্টে গ্যালারি করা হয়েছে। সেখানে বসেই যৌথ মহড়া দেখতে পাবেন ভারতীয়রা। প্রতিদিন বিকেলে সূর্যাস্তের ৩০ মিনিট আগেই মহড়া শুরু হয়ে যাবে। সীমান্তে আসা প্রত্যেকে যাতে মহড়া দেখতে পারেন, সেই চেষ্টা হবে। সীমান্তে নিরাপত্তা জনিত কোনও অসুবিধা থাকলে সেদিন মহড়া বন্ধ থাকবে। আপাতত সাত দিনই অনুষ্ঠান হচ্ছে।
এসেছিলেন বাংলাদেশের বাসিন্দা তথা পঞ্চগড় আমদানি রফতানি সংস্থার সভাপতি মেহেদি হাসান খান। তিনি বলেন, ‘‘এই সীমান্তে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অনেক উন্নতি হয়েছে। এ বার পর্যটনের বিকাশও হবে।’’