India on Chief Justice Surya Kant

লন্ডনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ভাষণে ‘বাধা’! কড়া নিন্দা করল ভারত সরকার, দূতাবাস থেকে জারি বিবৃতি

গত ৪ জুন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৪:৫৮
Share:

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। —ফাইল চিত্র।

ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে গিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। তার তীব্র নিন্দা করল ভারত সরকার। লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে শনিবার একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে ঘটনাটিকে ‘অশোভনীয়’ বলে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি।

Advertisement

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘গত ৪ জুন প্রধান বিচারপতি বার্কবেকে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন’ বিষয়ক একটি বক্তৃতা দেন। ভাষণের পর আলোচনা চলছিল। কিন্তু এক জন তাতে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন। শ্রোতাদের এমন অশোভনীয় আচরণ অভিপ্রেত নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে মতের ভিন্নতা স্বাভাবিক। তবে সেটা ভদ্র ভাবে, শ্রদ্ধাশীল ভাবে প্রকাশ করা উচিত।’’

ঠিক কী ঘটেছিল?

Advertisement

প্রধান বিচারপতির ভাষণের পর একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছিল বার্কবেকে। সেখানেই শ্রোতাদের মধ্যে থেকে এক জন উঠে দাঁড়িয়ে বিচারপতিকে প্রশ্ন করেন। ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ সংক্রান্ত সেই প্রশ্ন তাঁকে শেষই করতে দেওয়া হয়নি। তার আগেই সঞ্চালক বসিয়ে দেন প্রশ্নকর্তাকে। জানান, এই প্রশ্নটি তিনি নিতে পারবেন না। কী প্রশ্ন? প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে হয়েছিল, ‘‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র রক্ষায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে মাননীয় বিচারপতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। কিন্তু বর্তমানে দেশের ভিতরে ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু আইন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে যে, ভারতে ভিন্নমতের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই মনোভাবের কিছুটা প্রতিফলন মাননীয় বিচারপতির বক্তব্যেও দেখা যাচ্ছে বলে প্রচারিত হয়েছে।” এর পরেই প্রশ্নকর্তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় অন্য কোনও বিষয়ের প্রশ্ন নেওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে দেশের বেকার তরুণ সমাজকে আরশোলার সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। একটি মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি বলেছিলেন, বেকার তরুণেরা আরশোলার মতো। তারা সমাজের পরজীবী। কিছু না বুঝেই তাঁরা প্রচলিত ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করেন। এই মন্তব্যের পর বিতর্কের ঝড় বয়ে যায়। সমাজমাধ্যমে তৈরি হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। লন্ডনের প্রশ্নেও প্রধান বিচারপতিকে সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিতে চাওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে এ বার বিবৃতি দিল ভারতীয় দূতাবাস।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement