ওলাঁদের সফরে আইএস নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

প্রজাতন্ত্র দিবসের অতিথি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে একেই মাথাব্যথা রয়েছে যথেষ্ট। তার মধ্যে দেশে নতুন চেহারায় আইএসের আবির্ভাব গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবাহিনীর চোখের ঘুম কেড়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:৫১
Share:

প্রজাতন্ত্র দিবসের অতিথি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে একেই মাথাব্যথা রয়েছে যথেষ্ট। তার মধ্যে দেশে নতুন চেহারায় আইএসের আবির্ভাব গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবাহিনীর চোখের ঘুম কেড়েছে।

Advertisement

বুধবার ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি সংগঠনের চার সন্দেহভাজন জঙ্গিকে উত্তরাখণ্ড থেকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, অভিযুক্তেরা হরিদ্বারের অর্ধকুম্ভ মেলা ও হরিদ্বারগামী ট্রেনে হামলার ছক কষছিল। এই চার জন ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সিরিয়ায় আইএসের এক পাণ্ডার সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করছিল বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে।

আর এতেই ঘুম ছুটেছে গোয়েন্দাদের। কারণ এত দিন এ দেশে আইএসের মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে অনেকে তাদের হয়ে লড়াইয়ে যোগ দিতে ইরাক বা সিরিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কেউ আবার ফিরে এসে পুলিশের জালে ধরাও পড়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, এরাই কেউ কেউ অতিরিক্ত প্রভাবিত হয়ে একাই নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের ক্ষেত্রে ঘটনাটি একেবারে অন্য। এ ক্ষেত্রে চার জনই আইএস-পাণ্ডার সঙ্গে পরামর্শ করে একেবারে নির্দিষ্ট নিশানায় হামলার পরিকল্পনা নিয়েছিল। আইএস-অনুগামী সংগঠন আনসার-উত তাওহিদ ফি বিলাদ আল-হিন্দের সঙ্গেও এদের যোগাযোগ ছিল। অর্থাৎ, ভারতের মাটিতে এই প্রথম আইএসের পুরোদস্তুর সক্রিয় মডিউলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দাদের মতে, এ থেকেই স্পষ্ট যে ভারতে আইএসের জাল সম্পর্কে এত দিনের অনুমান পুরোপুরি ঠিক নয়। উত্তরাখণ্ডের মতো এই ধরনের আইএস-মডিউল অন্য রাজ্যেও থাকতে পারে। তাদের খোঁজার পাশাপাশি এর মোকাবিলার রণকৌশলও এখন ঢেলে সাজানো দরকার।

Advertisement

ঘাড়ের উপর প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান এসে পড়ায় আরও রক্তচাপ বেড়েছে গোয়েন্দাদের। কারণ এ বারের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি ফরাসি প্রেসিডেন্ট। প্যারিসে আইএস-হামলার ঘা এখনও দগদগে। ওলাঁদের ভারত সফরের সময়ে আইএস যে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। তার উপরে আবার ওলাঁদের সফর নিয়ে হুমকি চিঠি পেয়েছে বেঙ্গালুরুর

ফরাসি কনস্যুলেট।

কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আজ এক প্রস্থ সতর্কবার্তা জারি করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বলা হয়েছে, রাজধানীতে প্রজাতন্ত্র দিবসের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ফরাসি প্রেসিডেন্টের উপর হামলা হতে পারে। প্যারিস ও জাকার্তার ধাঁচেই যে এই হামলা হবে, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে সতর্কবার্তায়। এর পরেই প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান স্থল, ইন্ডিয়া গেট থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত গোটা চত্বর নিরাপত্তার জালে মুড়ে ফেলা হয়। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ২৬ জানুয়ারি ছুটির দিনে দিল্লি-নয়ডা-গুড়গাঁওয়ের শপিং মলগুলিতেও ভিড় হয়। সেগুলিকেও নিশানা করা হতে পারে।

ওলাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমেরিকার সিআইএ ও ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসই-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দাদের চিন্তা হল, উত্তরাখণ্ডে আইএসের যে দলটি হরিদ্বারে হামলা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে, তাদেরই অন্য সঙ্গীরা দিল্লিতে কোথাও ঘাপটি মেরে থাকতে পারে। অথবা একেবারে পৃথক কোনও দলও হতে পারে। এত দিন ১৩টি রাজ্যে আইএসের প্রভাব ছড়িয়েছে ধরে নিয়ে মোকাবিলার রণকৌশল তৈরি হত। এ বার ওই তালিকায় উত্তরাখণ্ড, হিমাচল, হরিয়ানার মতো আরও কিছু রাজ্যও যোগ হতে চলেছে।

উত্তরাখণ্ড থেকে যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়, তাদের বয়স ১৯ থেকে ২৩-এর মধ্যে। সকলেই শিক্ষিত। এদের মধ্যে আকলাকউর রহমান পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিল। চার জনই ফেসবুকের মাধ্যমে আইএসের সংস্পর্শে আসে। তার পর ফোন-হোয়াট্‌সঅ্যাপ-হাইকের মাধ্যমে আইএস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। ইন্টারনেটে পড়ত আইএসের মুখপত্র দাবিক। অর্ধকুম্ভের ভিড়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলে, বিস্ফোরণের পাশাপাশি হুড়োহুড়িতেও অনেক হতাহত হবে ভেবেই তারা ওই হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে জেরায় স্বীকারও করেছে ওই চার যুবক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement