ক্যানসার চিকিৎসায় প্রোটন থেরাপির সূচনা আজ

ক্যানসার চিকিৎসায় প্রোটন ক্লাবের’ ১৬তম সদস্য দেশ হচ্ছে ভারত।

Advertisement

জয়তী রাহা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০১৯ ০৪:৩১
Share:

প্রতীক্ষায় রয়েছেন ৩৫ জন। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শুরু হতে যাওয়া প্রথম প্রোটন সেন্টারে চিকিৎসার সুযোগ মিলছে মাত্র ৭ জনের। ক্যানসার রেডিয়েশনে এখনও পর্যন্ত সর্বাধুনিক চিকিৎসায় ‘প্রোটন বিম পেনসিল থেরাপি’র পরিষেবা আগামিকাল, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হতে চলেছে অ্যাপোলো, চেন্নাই হাসপাতালের নবনির্মিত প্রোটন ক্যানসার সেন্টারে।

Advertisement

এই সূচনার মাধ্যমে ক্যানসার চিকিৎসায় প্রোটন ক্লাবের’ ১৬তম সদস্য দেশ হচ্ছে ভারত। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের সমীক্ষা বলছে, প্রতি বছর ভারতে ১৫ লক্ষ নতুন ক্যানসার রোগীর কথা জানা যাচ্ছে। দেশে মোট মৃত্যুর আট শতাংশ ক্যানসারে হচ্ছে। এই মুহূর্তে দেশের ৩০ লক্ষ নাগরিক ক্যানসার আক্রান্ত। এই পরিস্থিতিতে ক্যানসার রেডিয়েশনে পজিটিভ কণা

প্রোটনের ব্যবহার, টার্গেট থেরাপি’কে উৎসাহিত করবে।

Advertisement

গভীরে চলে যাওয়া টিউমারের শিকড় কিংবা জটিল জায়গায় টিউমার নির্মূল করতে অনেক সময় অস্ত্রোপচার অসম্ভব হয়ে ওঠে। তখন রেডিয়েশন দিতে হয়। কোবাল্ট ক্যানসার আক্রান্ত কোষের পাশাপাশি সুস্থ কোষও নষ্ট হত। অ্যাপোলো প্রোটন সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর চিকিৎসক রাকেশ জালালি বলেন, “আলোর গতিতে ছুটে চলা প্রোটন কণার লক্ষ্যে পৌঁছনোর পরে বেরনোর ইচ্ছেই থাকে না। অনেক হিসেব কষে যে ‘টার্গেট’ স্থির করে দেওয়া হয়, সেখানে গিয়ে প্রতি পয়েন্টে (পেনসিল পেন্টিং) আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করে সে। আশপাশের সুস্থ কোষকে ছোঁয় না। ফলে আক্রান্ত জায়গায় পুরো এনার্জি পৌঁছতে পারে এবং দ্রুত কাজ হয়।”

১৯৯২ সালে ক্যালিফর্নিয়ার একটি হাসপাতালে প্রথম এই থেরাপি হয়। ২০১৭ সালে বেলজিয়াম থেকে ১২০ টন ওজনের এই যন্ত্র আনান অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ। তিন তলার সমান যন্ত্রটিকে বসাতেই লেগেছে দু’বছর। প্রায় নিখুঁত এই যন্ত্র ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে। চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো প্রোটন সেন্টারে এই চিকিৎসার প্রথম সুযোগ পেতে চলেছেন বছর পঁচাত্তরের প্রস্টেট ক্যানসার রোগী, অস্ট্রেলিয়া নিবাসী এক ভারতীয় বৃদ্ধ। জোধপুর থেকে পরিবারের সঙ্গে আজ সেন্টারে এসেছিল দ্বিতীয় রোগী, সাড়ে তিন বছরের শিশু— মস্তিষ্কের জটিল ক্যানসারে আক্রান্ত সে। বাকিদের মধ্যে রয়েছেন শিরদাঁড়া ক্যানসার, হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার, বুকের ক্যানসারের রোগী। এক জন রোগী এসেছেন ইরাক থেকে।

আজ, অ্যাপোলো প্রোটন সেন্টারে এক সাংবাদিক বৈঠকে ওই হাসপাতাল গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান প্রতাপ সি রেড্ডি বলেন “সেন্টার তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। শুধু যন্ত্রটির দামই ৫৫০

কোটি টাকা।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এক জন রোগীর ৩০ বার প্রোটন থেরাপি রেডিয়েশন নিতে খরচ পড়বে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। ১০-১২ বার নিতে হলে খরচ অনেকটাই কমবে। সেন্টারে রেডিয়েশনের প্রস্তুতি পর্বের চিকিৎসার জন্য তিন ভারতীয় বিজ্ঞানীর নামে তিনটি ঘর থাকছে। ক্যানসার চিকিৎসক সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, “ক্যানসার নির্মূল করা এই যন্ত্রের পক্ষেও সম্ভব নয়। সুস্থ কোষকে অক্ষত রাখতে পারবে এই যন্ত্র। সে বিষয়টিও ক্যানসার চিকিৎসায় জরুরি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement