(বাঁ দিকে) ‘থলপতি’ বিজয় এবং রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত।
আজ রাহুল গান্ধী তামিল সিনেমার ‘থলপতি’ বিজয়ের শেষ ছবি ‘জন নায়গন’-এর মুক্তি আটকানোর চেষ্টাকে তামিল সংস্কৃতির উপরে আক্রমণ বলে অভিযোগ তুললেন। সেই সঙ্গে আসন্ন তামিলনাড়ুর বিধানসভার ভোটে বিজয়ের দল টিভিকে বা তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম-এর সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনাও উস্কে দিলেন। কংগ্রেসের একটা বড় অংশ, বিশেষত নিচু তলার কর্মীরা বহুদিন ধরেই ডিএমকে-র বদলে সিনেমা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়ের নতুন তৈরি দলের সঙ্গে জোট চাইছেন। কংগ্রেসের রাজ্যের নেতারা আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন, বিজয় বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় রাজি হচ্ছেন না বলেই তাঁর শেষ ছবির মুক্তিকে সেন্সর বোর্ড বাধা দিয়েছে। আজ একই সুরে রাহুল ‘জয় নায়গন’-এর মুক্তি আটকানোর জন্য কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রককে দোষারোপ করে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘মিস্টার মোদী, আপনি কখনও তামিল জনগণের কণ্ঠরোধে সফল হবেন না।’’
তামিলনাড়ুতে ২০০৪ সাল থেকেই ডিএমকে ও কংগ্রেসের জোট চলছে। ২০২১-এ ডিএমকে কংগ্রেস-সহ অন্য দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েই ক্ষমতায় এসেছিল। করুণানিধি পুত্র এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বে সরকার হলেও কংগ্রেস সেই সরকারে জায়গা পায়নি। এ বার ডিএমকে প্রাথমিক ভাবে কংগ্রেসকে তামিলনাড়ু বিধানসভার ২৩৪টি আসনের মধ্যে ৩২টি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস ৩৮ থেকে ৪১টি আসন চাইছে। সেই সঙ্গে জোট সরকারে এলে তিনটি মন্ত্রী পদেরও দাবি জানিয়েছে। কিন্তু স্ট্যালিন অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে চাইছেন। এর মধ্যে কংগ্রেসের রাজ্যের নেতাদের টিভিকে-র নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছে। রাহুল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কংগ্রেসের ডেটা অ্যানালিটিক্স ও পেশাদার কংগ্রেসের চেয়ারম্যান প্রবীণ চক্রবর্তী বিজয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। অন্য দিকে, পি চিদম্বরমের মতো কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেস ডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধেই তামিলনাড়ুর বিধানসভার ভোটে লড়বে। ডিএমকে কংগ্রেসের অন্যতম পুরনো শরিক। তাঁর মতে, টিভিকে এখনই নির্বাচনে জেতার অবস্থায় নেই। কংগ্রেসের অন্য একটি অংশ আবার মনে করছে, কংগ্রেস-টিভিকে জোট হলে সংখ্যালঘু ভোটের সঙ্গে বিজেপি বিরোধী ভোটওমিলবে এবং পনিরসেলভমের নেতৃত্বাধীন এডিএমকে-র বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীও টিভিকে-র সঙ্গে জোটে যোগ দিতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে কারুরে টিভিকে-র জনসভায় পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর পরে রাহুল ফোনে বিজয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ওই ঘটনায় সিবিআই সোমবার বিজয়কে ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে ফের আগামী সোমবার হাজিরার জন্য সমন দিয়েছে। বিজয়ের ছবি মুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা গড়িয়েছে, যার শুনানি১৫ জানুয়ারি।
রাহুল মঙ্গলবার একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তামিলনাড়ু গিয়েছিলেন। ঠিক সেই দিনে বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর ছবির মুক্তি আটকানোর নিন্দা তামিল রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত নেতা গিরিশ চোড়নকর বলেন, ‘‘ডিএমকে আমাদের বিশ্বস্ত শরিক। আমরা সম্মান আশা করছি। দলের অনেকে টিভিকে-র সঙ্গে জোট চাইছে। তবে টিভিকে নির্বাচনে কী অবস্থান নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে