জিজ্ঞাসাবাদ স্থগিত সিবিআই দফতরে

সিবিআইয়ের তলব পেলে অনেক অভিযুক্তই নানা অজুহাতে বার বার হাজিরার দিন পিছোতে চান। কিন্তু সোমবার ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে ভুবনেশ্বরে। এক অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেও এ দিন তাঁকে আসতে বারণ করেছে সিবিআই। 

Advertisement

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৮ ০৩:২৩
Share:

সিবিআইয়ের সদরে যে ডামাডোল চলছে, এ বার তার প্রভাব পড়তে শুরু করল দেশ জুড়ে চলা নানা তদন্তে।

Advertisement

সিবিআইয়ের তলব পেলে অনেক অভিযুক্তই নানা অজুহাতে বার বার হাজিরার দিন পিছোতে চান। কিন্তু সোমবার ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে ভুবনেশ্বরে। এক অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেও এ দিন তাঁকে আসতে বারণ করেছে সিবিআই।

সি-শোর নামে একটি অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে এ দিন ওড়িশার হাই প্রোফাইল বিধায়ক দেবীপ্রসাদ মিশ্রকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার গোয়েন্দারা। দেবীপ্রসাদ ২০১৭ সালের মে মাস পর্যন্ত ওড়িশার শিল্প তথা শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। বিজু জনতা দলের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। সিবিআইয়ের মুখোমুখি হওয়ার দিন পিছনোর জন্য এ বার কোনও আবেদন করেননি দেবীপ্রসাদ। বরং সিবিআইয়ের পক্ষ থেকেই তাঁকে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়, সোমবার আসার প্রয়োজন নেই। পরে কোনও এক দিন তাঁকে ডাকা হবে।

Advertisement

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সারদা, রোজভ্যালির মতো ওড়িশাতে জাঁকিয়ে বসেছিল সি-শোর সংস্থা। শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন দেবীপ্রসাদ ওই সংস্থার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সূত্রেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। সিবিআইয়ের এক কর্তা জানান, প্রথম বার নোটিস দেওয়ার পর দেবীপ্রসাদ দিল্লি চলে গিয়েছিলেন। পরে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে ১২ নভেম্বরে তাঁকে ভুবনেশ্বর অফিসে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এ দিন তাঁকে আসতে বারণ করা হয়েছে।

কেন? সিবিআইয়ের একাংশের মতে, শীর্ষ দুই কর্তার গোলমালের জেরে আঞ্চলিক দফতরগুলিতে প্রায় কাজই হচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নাগেশ্বর রাওকে নীতিগত কোনও সিদ্ধান্ত না-নিতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না।

সারদা-রোজভ্যালির বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে রয়েছে বলে জানাচ্ছেন সিবিআইয়ের একাংশ। তাঁদের মতে, সারদা মামলায় নলিনী চিদম্বরমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবি কেনার মামলায় ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার কাজও আটকে গিয়েছে। পুজোর মাস হওয়ায় এমনিতেই জি়জ্ঞাসাবাদের কাজ কিছুটা ঢিমেতালে চলছে। সেই সঙ্গে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত সদরের ‘অনুমোদন’-এর অপেক্ষায়। সুপ্রিম কোর্ট বর্মা-আস্থানা মামলা নিয়ে চূড়ান্ত রায় না-দিলে তা আপাতত আটকেই থাকবে বলে মনে করছেন সিবিআই কর্তারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement