মৃত যুবতী অঞ্জলি। ছবি: সংগৃহীত।
ডিনারে প্রেমিকাকে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন প্রেমিক। খোশমেজাজে খাওয়াদাওয়া শুরু হয়। হালকা চালে কথাবার্তাও চলছিল। কিন্তু বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ, বচসার মাঝেই আচমকা প্রেমিকাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন প্রেমিক। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে।
মৃতা অঞ্জলি এবং অভিযুক্ত রাজীব, দু’জনেই একই অফিসে কাজ করতেন। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ হামলার শিকার হন অঞ্জলি। কর্মক্ষেত্রে পরিচয় হয় দু’জনের। তিন-চার বছর ধরে চেনাজানা। ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে, একসময়ে দু’জনে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। কিন্তু অঞ্জলির পরিবার রাজীবের সঙ্গে বিয়েতে রাজি ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজীব কয়েক দিন ধরেই অঞ্জলিকে বলছিলেন যাতে তিনি পরিবারের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারে কথা বলে রাজি করান। কিন্তু পরিবারের কারণে কয়েক দিন অঞ্জলি এড়িয়ে চলছিলেন রাজীবকে। তবে রবিবার রাজীব রাতে নিজের বাড়িতে অঞ্জলিকে নিমন্ত্রণ করেন। সেই মতো রাত ৮টার কিছু পরে রাজীবের বাড়ি পৌঁছোন অঞ্জলি।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং পরিচিতদের বয়ান অনুযায়ী, খাওয়াদাওয়া শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই আবার অঞ্জলির কাছে বিয়ের প্রসঙ্গ তোলেন রাজীব। কিন্তু অঞ্জলি জানান, রাজীবের প্রস্তাব মানা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, দু’জনের মধ্যে অশান্তির মাঝে আচমকা ছুরি তুলে অঞ্জলির গলায় কোপ দেন রাজীব।
রক্তাক্ত অবস্থায় অঞ্জলিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরু হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অঞ্জলির। খবর পেয়ে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুনের নেপথ্যে রাজীবের কোনও পরিকল্পনা ছিল, না কি আচমকাই ঘটিয়ে ফেলেছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হত্যার নেপথ্যে অশান্তি ছাড়া অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও রয়েছে পুলিশের আতশকাচের নীচে।