Manipur Violence

জঙ্গিদের কাছে ক্ষমা চাইনি, মণিপুরে লাগাতার অশান্তি নিয়ে দুঃখপ্রকাশের ব্যাখ্যা মুখ্যমন্ত্রী বীরেনের

মণিপুরের অশান্তির জন্য গত ৩১ ডিসেম্বর ক্ষমা চেয়েছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এ বার ওই ক্ষমাপ্রার্থনার ব্যাখ্যা দিতে হল তাঁকে। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ওই ক্ষমাপ্রার্থনা জঙ্গিদের কাছে ছিল না।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৫৬
Share:

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার অনলাইন।

মণিপুরের অশান্তির জন্য সম্প্রতি রাজ্যবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ। এ বার সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। বীরেনের বক্তব্য, তিনি ক্ষমা চেয়েছেন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে। জঙ্গিদের কাছে তিনি কোনও ক্ষমা চাননি।

Advertisement

গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে গোষ্ঠী হিংসায় উত্তাল মণিপুর। এ পর্যন্ত কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গৃহহীন আরও অনেকে। এই আবহে গত ৩১ ডিসেম্বর বীরেন রাজ্যবাসীকে অতীতের ঘটনাগুলি ভুলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “গত বছরের ৩ মে থেকে আজ পর্যন্ত যা যা ঘটেছে, তার জন্য আমি রাজ্যের জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি। বহু মানুষ প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। অনেককে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”

মণিপুরে বিজেপি শাসিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই কংগ্রেস বিভিন্ন মন্তব্য করতে শুরু করে। কংগ্রেস শিবিরের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়। কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মণিপুরে আসছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস। তিনি কি তা হলে মণিপুরে অশান্তি ছড়ানো জঙ্গিদের কাছেও ক্ষমা চাইলেন, এমন প্রশ্নও ইতিউতি উঁকি মারতে শুরু করে। এই অবস্থায় মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাঁরা তাঁর মন্তব্য নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁরাই আসলে মণিপুরকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন। বীরেন বলেন, “যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, নিজেদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। জঙ্গিদের কাছে আমি কেন ক্ষমা চাইতে যাব? ঘরছাড়া নিরীহ সাধারণ মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চেয়েছি।”

Advertisement

গত বছরের মে মাস থেকে মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসা ঘিরে উত্তপ্ত মণিপুর। মাঝে কিছু দিন বিরতির পর গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় একাধিক বাড়িঘর। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে মণিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কয়েক জন বিধায়কের বাড়িতে হামলা চালায় উন্মত্ত জনতা। রাজ্যের পাঁচ জেলায় জারি করা হয় কার্ফু। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলতি মাসেও মুখ্যমন্ত্রী বীরেনের বাড়ির অদূরে বোমা পাওয়া গিয়েছে! আঁটসাঁট করা হয়েছে বীরেনের নিরাপত্তা।

৩১ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পরেও মণিপুরে অশান্তি থামেনি। বর্ষবরণের প্রথম দিনেই বেশি রাতের দিকে মণিপুরের পশ্চিম ইম্ফল জেলার কদংবন্দ অঞ্চলে হামলা চালায় কয়েক জন জঙ্গি। সূত্রের খবর, তাদের সঙ্গে ছিল অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। হয় বোমাবাজিও।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement