প্রতিবাদ মিছিলে নির্ভয়ার মা। সোমবার যন্তর মন্তরে। ছবি: পিটিআই
আইনে অনুমোদন নেই। তাই নির্ভয়ার নাবালক ধর্ষককে আটকে রাখার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্টও। শীর্ষ আদালত জানাল, বর্তমান আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কমবয়সী অপরাধীদের ক্ষেত্রে তিন বছর বিশেষ সংশোধনাগারে আটকে রাখাটাই সর্বোচ্চ শাস্তি। নির্ভয়ার নাবালক ধর্ষক সেই শাস্তির মেয়াদ পূর্ণ করেছে। আইনি পথে তাকে আর আটকে রাখার উপায় নেই।
শীতকালীন ছুটি সত্ত্বেও বিচারপতি আদর্শ কুমার গোয়েল ও বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের বেঞ্চে আজ এই মামলার শুনানি হয়। অপরাধীকে আরও বেশি দিন আটকে রাখার উপায় নেই বুঝে মহিলা কমিশনের আইনজীবী গুরু কৃষ্ণকুমার যুক্তি দেন, চরিত্র সংশোধনের জন্য অন্তত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে ওই অপরাধীকে আরও দু’বছর আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হোক। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, বর্তমান আইনে নাবালক অপরাধীকে ৩ বছরের বেশি আটকে রাখার কোনও বিধান নেই। চরিত্র সংশোধনের জন্যও ২১ বছরের পরে কাউকে আটকে রাখা যায় না।
নির্ভয়া মামলার অপরাধীর এই মুক্তিকে কেন্দ্র করেই প্রবল বিক্ষোভ চলছে রাজধানীতে। আইন মোতাবেক রবিবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাকে। নির্ভয়ার পরিবার, নাগরিক সমাজের বড় অংশ এবং দিল্লি মহিলা কমিশন মুক্তির বিরোধিতা করছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টও মুক্তির পক্ষে রায় দেওয়ার পর আইন সংশোধনের দাবি আরও জোরদার হয়েছে। মোদী সরকার নাবালক বিচার আইনে বদল এনে ঘৃণ্যতম অপরাধের ক্ষেত্রে ১৬ বছর হলেই অপরাধীকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে। লোকসভায় বিলটি আগেই পাশ হয়েছে। আগামিকাল তা নিয়ে রাজ্যসভায় আলোচনা হবে। আজকেও যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসেছিলেন নির্ভয়ার মা। যতক্ষণ না আইন সংশোধন হচ্ছে, ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে ঠিক করেছেন তিনি। কাল বাবা-মা দু’জনেই সংসদে গিয়ে মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দেখা করবেন। রাজ্যসভায় যখন বিলটি উঠবে, তখন তাঁরা দর্শকাসনে থাকবেন।
আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স-সহ অনেক দেশেই ঘৃণ্য অপরাধে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের মতো কড়া শাস্তির নিদান রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপুঞ্জে শিশু অধিকার সংক্রান্ত সনদে ১৮ বছর পূর্ণ না-হওয়া পর্যন্ত সকলকে নাবালক হিসেবে গণ্য করার পক্ষে সই করেছে ভারত। অনেকে তাই বলছেন, বয়সসীমা কমিয়ে ১৬ বছর করা হলেই কি সমস্যা মিটে যাবে। এর পর ১৫ বছরের কেউ ধর্ষণ করলে কি বয়সসীমা আরও কমানো হবে? সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী করুণা নন্দীর মতো অনেকের বক্তব্য, বর্তমান আইনটি ঠিকই আছে। নির্ভয়া মামলার উদাহরণ টেনেই করুণা বলছেন, আইবি রিপোর্টে বলা হয়েছে ওই ধর্ষক যুবক সংশোধনাগারে আর এক জেহাদি অপরাধীর সঙ্গে থেকে জেহাদিভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। করুণার প্রশ্ন, এটা তো সরকারি সংশোধনাগারের সমস্যা। আইন বদলিয়ে কি তার সমাধান হবে?
তা ছাড়া, রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হলেও নির্ভয়ার ধর্ষককে আটকে রাখা সম্ভব নয়। কারণ নতুন আইনে পুরনো অপরাধের বিচার হয় না। একই অপরাধে দু’বার সাজাও হয় না। সুতরাং তাড়াহুড়ো না করে বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর পক্ষেও মত দিচ্ছে অনেক দল। আবার নির্ভয়া নিয়ে উত্তপ্ত আবহাওয়ায় আগেকার বিরোধিতার ঝাঁঝ খানিক কমিয়েও ফেলেছে তৃণমূল বা সিপিএমের মতো কেউ কেউ। নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী মেনকা গাঁধী নিজে বয়সসীমা কমিয়ে কড়া শাস্তির পক্ষে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নায়ডুরও বক্তব্য, সরকার আমজনতার দাবি মেনে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করতে চায়।