বিরোধী দলই শুধু নয়, আর্থিক সংস্কার নিয়ে দল ও সঙ্ঘকে বোঝাতেও হোঁচট খেতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে।
ক্ষমতায় আসার পরেই হই-হই করে আর্থিক সংস্কারের পথে নামতে চেয়েছিলেন মোদী। প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিমা বিলটি সোমবারই রাজ্যসভায় নিয়ে আসতে চাইছে সরকার। সেই বিলের বিরোধিতায় একজোট বিরোধীরাও। কিন্তু সংস্কারের পদক্ষেপে বাধা আসছে খোদ দল ও সঙ্ঘের ভিতর থেকেও। তাও সমান ভাবে সামাল দিতে হচ্ছে মোদী ও তাঁর সেনাপতিদের।
চলতি বছরের মধ্যেই পণ্য ও পরিষেবা কর চালু করতে উদ্যোগী হয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। ইউপিএ আমল থেকেই এর প্রয়াস চলছে। সেই সময়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিরোধিতাই প্রবল ছিল। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করেছিলেন, এনডিএ ক্ষমতায় আসার পরে সেই কাঁটা দূর হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এক চিলতেও বদলায়নি। বিজেপি শাসিত রাজ্যের বিরোধিতার সঙ্গেই সুর চড়া করেছে বাকিরাও। মধ্যপ্রদেশ, এমনকী গুজরাতও বেঁকে রয়েছে। হতাশ জেটলি কবুল করেছেন, “আমাদের দলের শাসনে থাকা রাজ্যগুলি থেকেই বেশি বিরোধিতা আসছে। রাজনৈতিক স্তরে এর মোকাবিলা ছাড়া গতি নেই। তবে রাজ্যের স্বার্থ মাথায় রাখা হবে।”
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই মোদী যে ভাবে রাজ্যের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে এসেছেন, এখনও তার অন্যথা করতে চান না। কিন্তু তিনি বুঝতে পারছেন, বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে দলের মধ্যে থেকে আসা বিরোধিতার একটি বড় কারণ সঙ্ঘ। ক’দিন আগেই সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে আরএসএসের নেতারা বলেছিলেন, “সঙ্ঘের প্রচারক থেকে আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোদী। সরকার চালানোর ব্যাপারে তাঁর বাধ্যবাধকতা বুঝি। কিন্তু এর পরেও স্বদেশি আর্থিক নীতি রূপায়ণের সুযোগ রয়েছে।” ইঙ্গিত স্পষ্ট, রাজনৈতিক বিষয়ে বিজেপির উপর সঙ্ঘ যেমন নিজেদের রাশ আলগা করতে চায় না, তেমনই আর্থিক বিষয়েও মোদী স্বদেশিয়ানার পথে চলবেন, সেই প্রত্যাশাও তাঁদের রয়েছে। তাই যে ভাবে মোদী হই-হই করে আর্থিক সংস্কারের পথে হাঁটছেন, যে ভাবে বিদেশি পুঁজি টানার অভিযানে বেড়িয়েছেন, সেটিও সঙ্ঘের একাংশের না-পসন্দ। কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জিতে এসে মোদী যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অর্জন করেছেন, সে কথা মাথায় রেখেই সঙ্ঘ এখনও সরব হচ্ছে না।
কিন্তু যেখানে আপত্তি রয়েছে, সেখানে চুপ করে বসে থাকতে চান না আরএসএস নেতৃত্ব। যেমন, সম্প্রতি ১৫টি জেনেটিকালি মডিফায়েড (জিএম) শস্যের অনুমোদন দিয়েছে এই সংক্রান্ত কমিটি। সরকার সেটি চালুরও ব্যবস্থা নিয়েছিল। কিন্তু সঙ্ঘের দুটি শাখা, স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ ও ভারতীয় কিষাণ সঙ্ঘ এর বিরোধিতায় আসরে নামে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরের কাছে সঙ্ঘ তাঁদের বিরোধিতা জানান। এর পরেই জাভড়েকর বলেন, সরকার এটি চালুর জন্য তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। মোদী মন্ত্রিসভার এক শীর্ষ সদস্যের কথায়, “কোনও বিষয়ে যদি সঙ্ঘের আপত্তি থাকে, তা বিবেচনা করা হবে। মোদীও সঙ্ঘের মন জানেন। সরকার চালাতে যা করার, নিশ্চয় করবেন।” তবে সঙ্ঘ নেতৃত্ব মোদী সরকারের জন্মলগ্ন থেকেই নিজেদের আধিপত্য কায়েম রাখতে চাইছেন। তাই মোদীর ইচ্ছায় অমিত শাহকে দলের সভাপতি করা হলেও রাম মাধব, শিব প্রকাশের মতো সঙ্ঘের নেতাদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো হয়েছে। রাম মাধবকে দিয়ে সরকার-সংগঠনের সমন্বয় চালানোর জন্যও চাপ দিচ্ছে সঙ্ঘ। ইউপিএসসির সঙ্কটেও তাই রাজনাথের সঙ্গে বৈঠকে সামিল রাম মাধব।