ধর্মপুত্রকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেবেন মোদী

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জিৎ বাহাদুরের অভিভাবক ছিলেন তিনিই। আগামী কাল সেই জিতের সঙ্গে তার পরিবারের পুনর্মিলনের ব্যবস্থাও করেছেন তিনিই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। ১৭ বছর পরে নেপাল যাচ্ছেন কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক দিকের পাশাপাশি এই সফরের ব্যক্তিগত দিকটির কথা নিজেই টুইটারে জানিয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়, “বেশ কয়েক বছর আগে একটি বালককে উদ্ধার করেছিলাম আমি। তার নাম জিৎ বাহাদুর। সে ভারতীয় ভাষা জানত না। কোথায় যাবে, কী করবে তা-ও জানা ছিল না।”

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০১৪ ০৩:২০
Share:

জিতের সঙ্গে মোদী।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জিৎ বাহাদুরের অভিভাবক ছিলেন তিনিই। আগামী কাল সেই জিতের সঙ্গে তার পরিবারের পুনর্মিলনের ব্যবস্থাও করেছেন তিনিই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী।

Advertisement

১৭ বছর পরে নেপাল যাচ্ছেন কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। কূটনৈতিক দিকের পাশাপাশি এই সফরের ব্যক্তিগত দিকটির কথা নিজেই টুইটারে জানিয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়, “বেশ কয়েক বছর আগে একটি বালককে উদ্ধার করেছিলাম আমি। তার নাম জিৎ বাহাদুর। সে ভারতীয় ভাষা জানত না। কোথায় যাবে, কী করবে তা-ও জানা ছিল না।” মোদী জানিয়েছেন, তিনি জিতের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন। সে গুজরাতিও শিখে নিয়েছিল। তার পরিবারেরও খোঁজ চলছিল। শেষ পর্যন্ত নেপালে খোঁজ পাওয়া যায় জিতের পরিবারের।

মোদী ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, নেপালের নওয়ালপরাসি জেলার কাওয়াসোতি পুরসভা এলাকার এক হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে জিৎ বাহাদুর মাগার। পেটের দায়ে ১৯৯৮ সালে বড় ভাই দশরথের সঙ্গে ভারতে আসে সে। রাজস্থানে কিছু দিন কাজও করেছিল। কিন্তু কাজের চাপ সামলাতে না পেরে পালায় সে। নেপালে ফেরার জন্য উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরগামী ট্রেনে উঠতে চেয়েছিল সে। কিন্তু ভুল করে উঠে পড়ে আমদাবাদগামী ট্রেনে।

Advertisement

গুজরাতে এসে একেবারে অথৈ জলে পড়েছিল জিৎ। ভাগ্যক্রমে আমদাবাদ স্টেশনে তার সঙ্গে দেখা হয় মোদীর সহযোগী এক মহিলার। তিনিই জিতকে মোদীর কাছে নিয়ে যান। তখনও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হননি ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী।

টুইটারে মোদী বলেছেন, “ঈশ্বরের নির্দেশেই জিতের ভার নিয়েছিলাম আমি।” ধর্মপুত্রের লেখাপড়ার সমস্ত ভার নিয়েছিলেন তিনি। এখন জিতের বয়স ২৭। আমদাবাদে ম্যানেজমেন্ট পড়ছে সে। মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিল্লিতে চলে আসার পর থেকে জিৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকে। এক সাক্ষাৎকারে জিৎ বলেছে, “মোদীজি আমার বড় ভাইয়ের মতো। ওঁর সাহায্য ছাড়া আমি যা হয়েছি তা হতে পারতাম না। এ বার পরিবারের সঙ্গে যখন দেখা হবে তখন বড় ভাইও সঙ্গে থাকবেন। এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

জিতের পরিবারের খোঁজ একদিনের জন্যও বন্ধ করেননি মোদী। ২০১১ সালে গুজরাতে ফিকির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন নেপালের ব্যবসায়ী বিনোদ চৌধুরি। মোদীকে নেপালে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান তিনি। মোদী তাঁকে জানান, তিনি যেতে রাজি। তবে চৌধুরীকে তাঁর ধর্মপুত্রের পরিবারের খোঁজ দিতে হবে। ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই সব খবর নিয়ে মোদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন চৌধুরী। জিতের পায়ে ছ’টি আঙুল থাকায় শনাক্ত করার সুবিধে হয়েছিল বলে টুইটারে জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীই। জিতের খোঁজ পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিল তার পরিবার। মোদীর চেষ্টায় ফের হারানো ছেলের কথা জানতে পারে তারা।

এ বার নেপাল সফরে গিয়ে জিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চান বলে আগেই জানিয়েছিলেন মোদী। তাই কাওয়াসোতি গিয়ে জিতের মা খাগিসারা, ভাই দশরথ, দশরথের স্ত্রী ও জিতের বোন প্রেম কুমারীর সঙ্গে দেখা করেন ভারতীয় দূতাবাসের অফিসাররা। তাঁদের ছবি ও নাগরিকত্বের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। আগামীকাল কাঠমান্ডু আসবেন ওই চার জন। জিতের সঙ্গে তার মায়ের পুনর্মিলনের সাক্ষী হতে চান মোদী।

নেপালে মোদীর জন্য অপেক্ষা করছে সারা বিশ্বের শিবমন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম পশুপতিনাথে পুজো দেওয়ার সুযোগ। সোমবার তাঁর জন্য পশুপতিনাথে বিশেষ পুজোর আয়োজন করেছে নেপাল সরকার।

মোদী বাগমতী নদীর তীরে পশুপতিনাথের মূল মন্দিরে আসার পরে তাঁকে বৈদিক মন্ত্র পড়ে স্বাগত জানাবেন বেদবিদ্যাশ্রমের ১০৮ জন ব্রাহ্মণ শিক্ষার্থী। বাজবে নেপালের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ধিমে ও বাঁশুরী। শিবলিঙ্গকে পঞ্চামৃতে স্নান করাবেন মোদী। তাঁর হাতে প্রসাদ তুলে দেবেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত গণেশ ভট্ট। মোদীর হাতে পশুপতিনাথ মন্দিরের প্রতিকৃতি তুলে দেবেন মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা।

নেপালের উপরে চিনের বাড়তে থাকা ছায়া, জঙ্গি কার্যকলাপ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে কূটনীতির কচকচি তো আছেই। কিন্তু নেপাল সফরে অন্য রঙেও ভরে উঠবে মোদীর ক্যানভাস।

রাষ্ট্রপুঞ্জে মোদী

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ২৭ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই প্রথম বিশ্ব দরবারে বক্তৃতা দেবেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভা। মোদীর সঙ্গে একই দিনে বক্তৃতা দেবেন বাংলাদেশ, চিন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা। ২৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পালা। এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদীর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement