হরমুজ় প্রণালী। — ফাইল চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালীতে দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু জাহাজ। তার মধ্যে অন্তত ১৩টি ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ গত ১০৭ দিন ধরে সেখানে আটকে রয়েছে। সূত্রের খবর, তাতে সওয়ার রয়েছেন ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক। ওমান বন্দরে আটক মাউন্ট সেলেস্টিয়াল জাহাজে অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় নাবিক নিশান্ত উর্থানাথনের। ওমানে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শীঘ্রই ওই নাবিকের দেহ দেশে ফেরানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শঙ্কার দিন গুনছে আটক জাহাজে সওয়ার নাবিকদের পরিবার।
রবিবার ওমানের মাসকটে ভারতীয় দূতাবাস বিবৃতি দিয়ে বলে, ‘‘নিশান্ত উর্থানাথনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ওই জাহাজের বাকি নাবিক এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’’ ওমানে ভারতীয় দূতাবাস এ-ও জানিয়েছে, শীঘ্রই মৃত নাবিকের দেহ দেশে ফেরানোরও চেষ্টা চলছে।
ওমানের দুকম বন্দরে রয়েছে মাউন্ট সেলেস্টিয়াল। গত ২০ মে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, তারা মাউন্ট সেলেস্টিয়ালকে আটক করেছে। হরমুজ়ে আমেরিকার অবরোধ অমান্য করে এগোনোর চেষ্টা করছিল। তার পরে জাহাজে তল্লাশি চালিয়ে সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নাবিকদের অন্য পথে এগোনোর কথাও বলা হয়। সেই জাহাজেই মারা গিয়েছেন এক নাবিক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। তার পরেই হরমুজ় অবরুদ্ধ করে তেহরান। গত এপ্রিল আমেরিকা পাল্টা হরমুজ়ে অবরোধ শুরু করে। দুই পক্ষের অবরোধের জেরে সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচল বিপন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষত তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়ে। বিশ্ব বাজারে দাম বাড়ে তেলের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ়ে আটকে রয়েছে ভারতীয় পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজ। সেখানে আটকে পড়েছে ৫৬২টি জন ভারতীয় জাহাজ। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক জানিয়েছে, হরমুজ়ের পশ্চিমে আটকে রয়েছেন ৩২৯ জন ভারতীয় নাবিক। প্রণালীর পূর্বে, ওমান উপসাগরে আটকে রয়েছেন ২৩৩ জন। ক্রমে জাহাজগুলিতে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। আতঙ্ক বাড়ছে নাবিকদের। তাঁদের পরিবারও উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে ওমান উপকূলে ডুবন্ত একটি জাহাজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভারতের ১৪ জন নাবিককে। গত সপ্তাহে হরমুজ় পেরনোর সময় তিনটি জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন সেনা। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন তিন ভারতীয় নাবিক।