প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
৫৮ মহিলাকে ধর্ষণে অভিযুক্ত মহারাষ্ট্রের নাসিকের অবসরপ্রাপ্ত মার্চেন্ট নেভি অফিসার তথা স্বঘোষিত ‘বাবা’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হল সড়ক দুর্ঘটনায়। শুক্রবার রাজ্যের অহল্যানগর জেলার সমৃদ্ধি এক্সপ্রেসওয়েতে একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কায় মৃত্যু হয় ‘বাবা’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর স্ত্রী-র। মৃতেরা হলেন, জিতেন্দ্র শেল্কে (৫৫) এবং তাঁর স্ত্রী অনুরাধা (৫০)। তাঁদের পুত্র আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, জিতেন্দ্র ছিলেন ‘বাবা’র ব্যবসায়িক অংশীদার। শুধু তা-ই নয়, ‘বাবা’ যে ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন, সেই ট্রাস্টের সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন জিতেন্দ্র। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ পশ্চিম মহারাষ্ট্রের কোপারগাঁও থানা এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয় জিতেন্দ্রদের গাড়ি। গাড়িতে ছিলেন জিতেন্দ্র, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্র। জিতেন্দ্রই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তাঁরা মুম্বই-নাগপুর সমৃদ্ধিনগর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ছত্রপতি শম্ভাজিনগর থেকে ঠাণে যাচ্ছিলেন। ধোত্রে গ্রামের কাছে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন জিতেন্দ্র। তার পর রাস্তার ধারে দাঁড় করানো একটি ট্রাকে গিয়ে ধাক্কা মারে গাড়িটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়ির ভিতরে তিন জনই আটকে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তিন জনকেই উদ্ধার করে। কিন্তু জিতেন্দ্র এবং তাঁর স্ত্রীকে বাঁচানো যায়নি। পুত্রের চিকিৎসা চলছে। প্রসঙ্গত, গত মাসে ৫৮ জন মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে নাসিকের অবসরপ্রাপ্ত মার্চেন্ট নেভি অফিসারের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়ে জেলবন্দি ‘বাবা’। তদন্তকারী সূত্রে খবর, ‘বাবা’র ব্যবসায়িক সব কিছু সামলাতেন জিতেন্দ্র। আচমকা তাঁর এই মৃত্যু নিয়ে জল্পনা বাড়তে শুরু করেছে। জোরালো হচ্ছে এই তত্ত্বও যে, ‘বাবা’র ঘনিষ্ঠ হওয়ায় জিতেন্দ্র তাঁর দুর্নীতির সাম্রাজ্যের অনেক কিছু জানতেন। তা হলে কি এটি স্বাভাবিক কোনও দুর্ঘটনা, না কি দুর্ঘটনার আড়ালে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে।