প্রতীকী ছবি।
গোয়ায় দুই রুশ তরুণীর খুনে নয়া তথ্য উঠে এল। পুলিশের সন্দেহ, টাকার জন্যই খুন করা হয়েছে ওই দু’জনকে। অভিযুক্ত আলেক্সেই লিওনভের সঙ্গে দুই তরুণীর ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। আর সেই সূত্রেই লিওনভের কাছ থেকে টাকা ধার করেছিলেন দু’জনেই। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না ওই দুই রুশ তরুণী। আর এখান থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত।
সূত্রের খবর, পরিকল্পনা করে দু’জনকে খুন করা হয়নি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত মাদকাসক্ত। ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত রুশ তরুণী এলিনা ভানিভা গত ১০ জানুয়ারি গোয়ায় আসেন। অন্য দিকে, এলিনা কাস্থানোভা গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকেই গোয়ায় ছিলেন। তখন তিনি অভিযুক্ত যুবক লিওনভের সঙ্গেই গোয়ায় একটি বাড়িতে থাকতেন। তাঁরা একসঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজও করেছেন। মাঝেমধ্যে গোয়ায় আসতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিয়ে ভারতে রয়েছেন লিওনভ। দেশের নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে কাজ করতেন। গোয়াতেও মাঝেমধ্যে আসতেন। আর সেই সূত্রেই দুই এলিনার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল লিওনভের। সেই পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা। লিওনভ যখনই গোয়ায় আসতেন তখনই দুই এলিনার সঙ্গে থাকতেন। লিওনভ দাবি করেছেন, তাঁর কাছ থেকে প্রচুর টাকা ধার নিয়েছিলেন দুই তরুণী। তাঁর দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, লিওনভের ফোন থেকে একশোরও বেশি মহিলার ছবি পাওয়া গিয়েছে। এই মহিলারা কারা, কেন তাঁদের ছবি লিওনভের মোবাইলে, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই দুই খুনের সূত্র ধরে অসমের এক মহিলার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। মৃতের নাম মৃদুস্মিতা সইকিয়া। গত ১২ জানুয়ারি ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাচক্রে, ওই মহিলার সঙ্গেও লিওনভের যোগাযোগ ছিল। তাঁদের দু’জনকে মাঝেমধ্যেই একসঙ্গে গোয়ায় দেখা গিয়েছে। গত ১১ জানুয়ারিতেও মৃদুস্মিতা এবং লিওনভকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল বলে সূত্রের খবর। তবে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, অতিরিক্ত মাদক সেবনের জন্য মৃত্যু হয়েছে মৃদুস্মিতার।