Artificial Snowfall

বরফ-খরা! ভূস্বর্গ থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন পর্যটকেরা, কৃত্রিম তুষারপাত চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর

দিন কয়েক আগেই বিজ্ঞানী শাকিল আহমদ রামশু জানান, উপত্যকার অন্যতম প্রধান হিমবাহ কোলাহয় দ্রুত হারে গলছে। ১৯৯২ সালে যত এলাকা জুড়ে এই হিমবাহ ছিল, ২০২৫ সালে তার ৩০ শতাংশ গলে গিয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৫০
Share:

এ বার কি কৃত্রিম বরফ দিয়ে ঢাকা হবে ভূস্বর্গ! — ফাইল চিত্র।

যে দিকে চোখ যায়, শুধু সাদা আর সাদা। নদী থেকে হ্রদ, চিনার থেকে পাইন, সাদা তুষারে ঢাকা। সে দৃশ্য এখন অমিল কাশ্মীরে। গত বছরের পরে এ বছরও সেখানে তুষার-খরা। এ ভাবে চললে গুলমার্গে কি আর পর্যটকেরা আসবেন? এই প্রশ্ন খোদ জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার। তাঁর আশঙ্কা, এতে মুখ থুবড়ে পড়বে কাশ্মীরের পর্যটন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। সে কারণে ওমরের আর্জি, কৃত্রিম তুষারপাতের ব্যবস্থা করা হোক কাশ্মীরে। তবে আশার কথা, রবিবার মরসুমের প্রথম তুষারপাত হয়েছে ভূস্বর্গে। তবে আরও কয়েক দিন টানা তুষারপাত হলে তবেই জমতে পারে বরফের আস্তরণ।

Advertisement

ওমর জানিয়েছেন, কাশ্মীরে হিমবাহ গলতে শুরু করেছে। তুষারপাতের পরিমাণও কমেছে। এটাই এখন সেখানে বাস্তব। তাই কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পের অংশীদারদের কাছে তাঁর আর্জি, কৃত্রিম উপায়ে তুষারপাত ঘটানোরও ব্যবস্থা করা হোক। একমাত্র তা হলেই ফিরবেন পর্যটকেরা। হিমাচলের লাহৌলে পর্যটনস্থলে ইতিমধ্যেই পাহাড়ের মাথা থেকে বরফ এনে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের টানতেই সেই ব্যবস্থা নিয়েছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। তবে সেই নিয়ে সমাজমাধ্যমে সমালোচনাও হয়েছে।

গত এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকেই কাশ্মীরে পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। শীতে বরফ দেখতে বহু মানুষ ভূস্বর্গে ছোটেন। কিন্তু এ বার সে দিক থেকেও নিরাশ হতে হচ্ছে পর্যটকদের। নভেম্বর থেকে বরফে ঢেকে যায় কাশ্মীর। এ বার তা আর হয়নি।

Advertisement

একটি পর্যটন সংক্রান্ত সম্মেলনের সূচনা করে ওমর বলেন, ‘‘তুষার না থাকলে আমি গুলমার্গ বেচতে পারব না। হিমবাহ গলছে। তুষারপাত কমেছে। এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে আমাদের।’’ তিনি এ-ও জানান, এখন জলবায়ুর পরিবর্তনের বিষয়টিতে আরও বেশি করে নজর দিতে হবে।

দিন কয়েক আগেই বিজ্ঞানী শাকিল আহমদ রামশু জানান, উপত্যকার অন্যতম প্রধান হিমবাহ কোলাহয় দ্রুত হারে গলছে। ১৯৯২ সালে যত এলাকা জুড়ে এই হিমবাহ ছিল, ২০২৫ সালে তার ৩০ শতাংশ গলে গিয়েছে। গত ১০ বছরে গলেছে সবচেয়ে বেশি।

এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের টানতে প্রযুক্তির ব্যবহার করে ‘অ্যাডভেঞ্চার টুরিজ‌্ম’ চালু করা হোক, দাবি ওমরের। তিনি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্যারাগ্লাইডিং, হট-এয়ার বেলুনিংয়ের মতো পরিষেবা চালু করলে সারা বছর কাশ্মীরে পর্যটকেরা আসবেন। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পরে কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে আর্থিক ভাবে নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement