রাহুল গান্ধী। ফাইল চিত্র।
তৃণমূলের পরে বিজেপি এ বার শরদ পওয়ারের এনসিপি, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও হেমন্ত সরেনের ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চায় ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কংগ্রেস তথা বিরোধী শিবির। কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, বিরোধী শিবিরের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিবাদ তৈরি করতেই কখনও কংগ্রেস-তৃণমূলের পুনর্মিলন, কখনও কংগ্রেস ও শরদ পওয়ারের এনসিপি-র পুনর্মিলন নিয়ে তত্ত্ব জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে। যদিও বাস্তবে এ নিয়ে কোনও আলোচনাই শুরু হয়নি। একই ভাবে কংগ্রেসের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনে এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী শিল্পপতি পরিমল নাথওয়ানিকে জেতাতে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বিধায়কদের সমর্থন আদায় করছে বিজেপি। যদিও মোর্চা কংগ্রেসকেই রাজ্যসভা নির্বাচনে সমর্থন করেছে।
ইন্ডিয়া মঞ্চের বৈঠকের পরেই কংগ্রেস ও তৃণমূলের পুনর্মিলন নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। এ বার দিল্লি তথা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে কংগ্রেস ও শরদ পওয়ারের এনসিপি-র পুনর্মিলন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কংগ্রেসের একাংশের দাবি, শরদ পওয়ারের দলের এক নেতার থেকেই এই প্রস্তাব কংগ্রেসের এক নেতার কাছে এসেছে। তিনি তা কংগ্রেস হাইকমান্ডকে জানিয়েছেন। উল্টো দিকে, এনসিপি সূত্রের দাবি, আনুষ্ঠানিক ভাবে কংগ্রেসকে কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি শিবসেনা (উদ্ধব)-এর নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছিলেন, এনসিপি (শরদ), তৃণমূলের মতো কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে তৈরি দলগুলির কংগ্রেসে মিশে যাওযা উচিত। শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘‘সঞ্জয় রাউত আমার বড় ভাইয়ের মতো। তিনি একটি ভাল পরামর্শ দিয়েছেন। কী হবে, কী ভাবে হবে, তা সময় বলবে।’’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অজিত পওয়ারের মৃত্যুর আগে এনসিপি-র দু’টি অংশের পুনর্মিলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই সম্ভাবনা নেই। ফলে শরদ পওয়ারের এনসিপি-র একাংশ কংগ্রেসের মধ্যে মিশে যেতে চায়। তবে দলের সর্বোচ্চ কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতার সমর্থনে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পওয়ার চাইলে তা হয়েও যাবে। কিন্তু তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে সেই পথ খোলা নেই। তিনি চাইলেও এখন দলের সর্বোচ্চ কমিটির বৈঠক ডেকে কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাশ করাতে পারবেন না। কারণ তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাই এখন বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, ‘‘রাজনৈতিক মতাদর্শ এক হলেই দুই রাজনৈতিক দলের পুনর্মিলন হয়ে যায় না। বড় দলে গিয়ে ছোট দল মিশলে, সেখানে ছোট দলের নেতাদের পদ,ক্ষমতা কী হবে, তা নিয়ে দর কষাকষি করতে হয়। দু’টুকরো হওয়া দলের পুনর্মিলন সহজ হলে এত দিনে সিপিএম, সিপিআইয়ের পুনর্মিলন হয়ে যেত!’’
কংগ্রেস মনে করছে, এই পুনর্মিলন নিয়ে জল্পনা তৈরি করে সব দলের মধ্যেই বিভ্রান্তি বা ক্ষোভ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। কংগ্রেস, তৃণমূল, এনসিপি— যেখানে যে নেতাদের পুনর্মিলন নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁরা এর বিরোধিতা করে দল ভেঙে বেরিয়ে বিজেপিতে চলে যেতে পারেন। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, ‘‘সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ভাবে মরিয়া হয়ে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করছেন, তা অভূতপূর্ব। কারণ, স্বঘোষিত চাণক্য এপ্রিলে সংসদে আসন পুনর্বিন্যাসের সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে না পেরে অপমানিত হয়েছেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে