পরমাণু বিজ্ঞানী সুলতান বাসিরুদ্দিন মাহমুদের পুত্র আহমেদ শরিফ চৌধরি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। জঙ্গিগোষ্ঠী ‘আল কায়দা’কে পরমাণু অস্ত্র বানানোর কৌশলও নাকি বলে দিয়েছিলেন তিনি! সেই অভিযোগে পরে তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল আমেরিকা। পাকিস্তানের সেই পরমাণু বিজ্ঞানী সুলতান বাসিরুদ্দিন মাহমুদের পুত্র আহমেদ শরিফ চৌধরিই এক পাক সেনার মুখপাত্র।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে বেশ কয়েকটি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। ভারতীয় সেনার সেই অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে পাক সেনার তরফে সাংবাদিক বৈঠকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধরিকেই বার বার সামনে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনিই এখন পাকিস্তানের ‘ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন’ (আইএসপিআর)-এর প্রধান। ২০২২ সালে তাঁকে এই পদে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিফ মুনির।
সরকারি সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, জেনারেল চৌধরিই পাকিস্তানের সেই বিতর্কিত পরমাণু বিজ্ঞানী মাহমুদের পুত্র। মাহমুদের জন্ম অমৃতসরে। তিনি পাকিস্তানের অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনে কর্মরত ছিলেন। বিজ্ঞান এবং ধর্মের যোগসূত্র টেনে কয়েকটি বইও লিখেছেন মাহমুদ। তার মধ্যে অন্যতম হল— ‘মেকানিক্স অফ দ্য ডুমসডে’, ‘লাইফ অ্যান্ড ডেথ’। মাহমুদের বয়স এখন ৮৫। তিনি ইসলামাবাদে থাকেন। আল কায়দার তৎকালীন প্রধান লাদেনের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিযোগে তাঁকে ২০০১ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দাবি, মাহমুদ অভিযোগ স্বীকারও করেছিলেন। কিন্তু পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু তার পর থেকেই মাহমুদকে কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছে আমেরিকার ট্রেজ়ারি দফতর। মাহমুদের বিরুদ্ধে মৌলবাদী সংগঠন ‘উম্মা তামির-ই-নৌ’-এর জন্য তহবিল তৈরিরও অভিযোগ উঠেছিল। তার পুত্রই এখন পাক সেনার মুখপাত্র হয়ে ওঠায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে চাইছে নয়াদিল্লি।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, পাকিস্তানে ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি’ (এনসিএ)-র বৈঠক বসতে চলেছে। বস্তুত, পাকিস্তানের সামরিক এবং অসামরিক শীর্ষকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির হাতেই রয়েছে সে দেশের পরমাণু অস্ত্র এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার। সেই কমিটির বৈঠকে বসা নিয়ে খবর চাউর হতেই আশঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বিভিন্ন মহল। প্রশ্ন উঠছিল, পাকিস্তান কি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছে?
যদিও ইসলামাবাদের এ রকম কোনও পরিকল্পনা নেই বলে পরে স্পষ্ট করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এক পাক সংবাদমাধ্যমকে খোয়াজা জানিয়ে দেন, ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি’র কোনও বৈঠক হয়নি। এ রকম কোনও বৈঠক হওয়ারও কথা নেই। সেই সূত্রেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে একটি ‘কিন্তু’ও যোগ করেছেন আসিফ। তিনি বলেছেন, ‘‘কিন্তু যদি এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে দর্শকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’’ অর্থাৎ, প্রকারান্তরে গোটা বিশ্বকেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। খোয়াজা বলেন, ‘‘ভারত কী পরিস্থিতি তৈরি করে, তার উপর ভিত্তি করে আমরা যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেব।’’
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের এনসিএ-র নেতৃত্বে রয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। তিনিই এই বৈঠক ডেকেছেন বলে প্রাথমিক ভাবে পাক সেনা সূত্রে জানা গিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই দাবি নস্যাৎ করেছেন খোয়াজা। পাকিস্তানের এনসিএ-তে শাহবাজ় ছাড়া রয়েছেন তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, মন্ত্রিসভার পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (অর্থ, বিদেশ, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র এবং শিল্প ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন), সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখা (স্থল, নৌ ও বায়ুসেনা)-র প্রধান। এ ছাড়া রয়েছেন, পাক সশস্ত্র বাহিনীর ‘জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফস কমিটি’র চেয়ারম্যান, ‘স্ট্র্যাটেজ়িক প্ল্যানস ডিভিশন’ (কৌশলগত পরমাণু সংক্রান্ত গবেষণা এবং পরমাণু অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত)-এর প্রধান এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর ডিরেক্টর।