—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
তৃণমূল কংগ্রেস, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা, আম আদমি পার্টিতে ভাঙন ধরানো হয়েছে। দৌত্য চলছে শরদ পওয়ারের এনসিপি-র সঙ্গে। লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিলে ডিএমকে-র সমর্থন পেতেও এখন সক্রিয় বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এবং সে জন্য সংশ্লিষ্ট বিলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে তৈরি নরেন্দ্র মোদী সরকার।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, প্রতিটি রাজ্যের লোকসভার আসন ৫০ শতাংশ করেই যে বাড়বে, তা লিখিত ভাবে পরিবর্তিত আসন পুনর্বিন্যাস বিলে রাখা হবে। তা জানিয়ে ডিএমকে-কে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, এতেই তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ ভারতের লাভ। জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস হলে তামিলনাড়ু বা দক্ষিণ ভারতের অন্য রাজ্যগুলির আসন ৫০ শতাংশ বাড়বে না। কারণ, দক্ষিণের রাজ্যগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হিন্দি বলয়ের তুলনায় কম। ফলে লোকসভায় তামিলনাড়ু বা দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির তুলনামূলক প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে। তার বদলে ভারতের সব রাজ্যেরই লোকসভা আসন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিলে লোকসভায় মোট আসনের তুলনায় কোনও রাজ্যের লোকসভা আসনের অনুপাত অপরিবর্তিতই থাকবে। ডিএমকে বিজেপি নেতৃত্বকে এখনও আশ্বাস দেয়নি বলে সূত্রের খবর।
গত এপ্রিলে মোদী সরকার লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস তথা মহিলা সংরক্ষণের জন্য সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছিল, দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা না থাকায়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মোদী সরকার এমন ভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে, যাতে হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে ভাল ফল করলেই ২০২৯-এ ক্ষমতায় ফিরতে পারে। ওই বিলে প্রস্তাব ছিল, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে। প্রতিটি রাজ্যের লোকসভার আসন ৫০ শতাংশ করে বাড়বে। কংগ্রেস, ডিএমকে প্রশ্ন তুলেছিল, প্রতিটি রাজ্যের লোকসভার আসন যে ৫০ শতাংশ করে বাড়বে, তার নিশ্চয়তা কী?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তখন লোকসভায় বলেছিলেন, বিরোধীরা বিলটি সমর্থন করতে রাজি হলে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে বিলে সরকারি সংশোধনী এনে ওই আসনবৃদ্ধির কথা রাখতে তৈরি। বিরোধীরা রাজি হননি।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, গত ১৭ এপ্রিল লোকসভায় সেই ভোটাভুটির সময়ে উপস্থিত ৫২৮ জনের মধ্যে ৩৫২টি ভোট দরকার ছিল বিল পাশ করাতে। সরকার পেয়েছিল ২৯৮টি। ৫৪৩ জন সাংসদই উপস্থিত থাকলে সংবিধান সংশোধনে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনের শর্ত মেনে ৩৬২টি ভোট দরকার। এনডিএ-র সাংসদ ২৯৪ জন। তৃণমূল থেকে বেরনো ২০ জন এবং উদ্ধবের শিবসেনা থেকে বেরোনো ৬ জনকে নিলে এনডিএ-র পক্ষে ৩২০ জন রয়েছেন। ডিএমকে-র ২২ জন সরকারের পক্ষে ভোট দিলে এনডিএ-র ভোট ৩৪২ হবে। এর পরে যদি শরদের এনসিপি-র সমর্থন মেলে বা তাদের ভোটে গরহাজির থাকতে রাজি করানো যায়, বিল পাশ করানোর জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব।
এই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে মোদী সরকার সংসদের বাদল অধিবেশনে (২০ জুলাই থেকে শুরু) প্রথমে সংবিধানের ১৩০-তম সংশোধনী বিল পাশ করানোর চেষ্টা করবে। যে বিলে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের বেশি কারাদণ্ডের সাজা রয়েছে এমন অপরাধে যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্র বা রাজ্যের মন্ত্রী টানা ৩০ দিন আটক থাকেন, ৩১তম দিনে তাঁর পদ চলে যাবে। এই বিল পাশ করিয়ে নিতে পারলে পুনর্বিন্যাস বিল সংশোধন করে সংসদে আনা হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে