Uniform Civil Code

তিন রাজ্যে একই ধাঁচের ইউসিসি, প্রশ্ন একত্রবাস বিধিতে

উত্তরাখণ্ডের পরে গুজরাত এবং তার পরে সম্প্রতি অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) চালু হয়েছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৭:৪৩
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

দু’বছর আগে উত্তরাখণ্ডে বিজেপি সরকার দেশের মধ্যে প্রথম অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছিল। সেই বিধিতে বিয়ের সঙ্গে ‘লিভ-ইন’ বা একত্রবাসের নথিবদ্ধকরণ বা রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিয়ে বা একত্রবাসের রেজিস্ট্রেশন না করা হলে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার শাস্তিও রয়েছে বিধিতে। বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উত্তরাখণ্ডের পরে গুজরাত এবং তার পরে সম্প্রতি অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) চালু হয়েছে। জাত-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক সংক্রান্ত বিষয়ে একই আইন চালু করতে তিন বিজেপি-শাসিত রাজ্যের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতেই মোটামুটি একই রকম নিয়ম মানা হয়েছে। তিন ক্ষেত্রেই জনজাতি সম্প্রদায়কে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার পথে হাঁটছে। রাজনৈতিক শিবির তথা আইনজীবীরা মনে করছেন, উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও অসমের ‘মডেল’ মেনে পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি চালু হবে। পশ্চিমবঙ্গেও জনজাতি বা আদিবাসীদের ইউসিসি-র বাইরে রাখা হবে বলে শনিবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও অসমে প্রথমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির রূপায়ণ ও তার খসড়া তৈরির জন্য কমিটি তৈরি হয়। তার পরে ইউসিসি-র বিল বিধানসভায় পাশ হয়। এখন বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশে ইউসিসি-র খসড়া তৈরির কাজ চলছে। বিজেপি-শাসিত ছত্তীসগঢ়, রাজস্থান ইউসিসি-র প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার কী ভাবে রাজ্যে ইউসিসি চালু করা যায়, তা খতিয়ে দেখছে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হল বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে জাত-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের জন্য একই আইন। এখন এ সব ক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্সি, সকলের আলাদা আইন বা রীতিনীতি রয়েছে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত, অসম—তিন রাজ্যেই ইউসিসি চালু করে বিয়ের নথিবদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক করেছে। এত দিন বিয়ের সামাজিক অনুষ্ঠানটাই মূল ছিল। বিয়ের রেজিস্ট্রেশন ইচ্ছের উপরে নির্ভরশীল ছিল। তিন রাজ্যেই বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হয়েছে। একত্রবাস বা ‘লিভ-ইন’ করলেও তার সরকারি নথিবদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক। রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হওয়ায় বিয়ের ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি ও ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। কারণ সাব-রেজিস্ট্রারকে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের আর্জি খারিজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের যুক্তি, এর ফলে ১৮ বছরের কমবয়সি মেয়েদের বিয়ে, প্রতারণা রোখা যাবে।

তিন রাজ্যেই উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মের আলাদা আইন তুলে দিয়ে সম্পত্তির ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মায়ের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। পুত্র ও কন্যা সন্তানকে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। মুসলিমদের ক্ষেত্রে কন্যা সন্তান বা হিন্দুদের ক্ষেত্রেস্বামীহারা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য রাখা হয়নি। একই ভাবে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও সকলের জন্য এই আইন চালু হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে একটি মুসলিম পরিবারে মুসলিমদের শরিয়ত আইন মেনে তালাক ও নিকাহ-হালালার অভিযোগ আসায় এফআইআর-ও দায়ের হয়েছে। আইনজীবীদের বক্তব্য, বিধি মানা না হলে তিন রাজ্যেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রয়েছে। তবে রাজ্য অনুযায়ী তাতে ফারাক রয়েছে। উত্তরাখণ্ড, অসমের তুলনায় গুজরাত কড়া শাস্তিরব্যবস্থা করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন