(বাঁ দিকে) তেজস্বী যাদব এবং রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
বিহারে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’য় কি ফাটল? এখনও চূড়ান্ত আসনরফা প্রকাশ করেনি তারা। তবে তার আগেই তেজস্বী যাদবের দল আরজেডি এবং কংগ্রেস আলাদা আলাদা ভাবে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করতে শুরু করেছে। সোমবার ১৪৩টি আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে আরজেডি। সেই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই জোটে ফাটলের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। কারণ, কয়েকটি আসনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই প্রার্থী দিয়েছে আরজেডি!
আলোচনায় রয়েছে বিহারের লালগঞ্জ বিধানসভা আসন। এই আসনে কংগ্রেস আগেই আদিত্যকুমার রাজাকে প্রার্থী করেছে। এ বার সেই আসনে তেজস্বীর দল শিবানী শুল্কাকে প্রার্থী করল। পাশাপাশি কাহালগাঁও বিধানসভা আসনে বিরোধী জোটের দুই সঙ্গী কংগ্রেস এবং আরজেডি প্রার্থী দিয়েছে। এই আসন কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এ বারও কাহালগাঁও আসন থেকে প্রবীণ নেতা সদানন্দ সিংহকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। সোমবার আরজেডির প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে ওই আসনও। আরজেডির প্রার্থী রাজনীশ ভারতী। এ ছাড়াও বৈশালী বিধানসভা কেন্দ্রেও সম্মুখসমরে আরজেডি এবং কংগ্রেস। এই আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্জীব কুমার এবং আরজেডি প্রার্থী অশোককুমার কুশওয়াহা।
এ ছাড়াও, জোটসঙ্গী সিপিআই এবং বিকাশশীল ইনসান পার্টি (ভিআইপি)-ও আলাদা আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কয়েকটি আসনে ‘দ্বন্দ্ব’ও দেখা দিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে তারাপুর, বাচওয়ারার মতো আসনগুলিও।
বিহারের রাঘোপুর আসন থেকে আগেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। প্রথম দফাতেই ভোট রয়েছে রাঘোপুরে। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করে রাঘোপুর-সহ ১৪৩টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল আরজেডি। গত বুধবার তেজস্বী রাঘোপুর থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর পরই দেখা যায়, কোনও আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতালিকা প্রকাশ না-করেই বেশ কিছু আসনে একে একে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে থাকে কংগ্রেস। পরে বৃহস্পতিবার ৪৮ জনের প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করে কংগ্রেস। পরে ধাপে ধাপে আরও ১২ আসনের প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করে হাত শিবির।
এখনও চূড়ান্ত আসন সমঝোতায় পৌঁছোতে না-পারায় কংগ্রেস এবং আরজেডি একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। প্রশ্ন তুলছে, কেন আলোচনা ছাড়াই নিজের মতো করে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করা হল? বিহারে কংগ্রেসের প্রধান রাজেশ রামের অভিযোগ, জোটবিরোধী কাজ হচ্ছে। তবে আরজেডির দাবি, তারা এখনও আশাবাদী। তবে জোটে আসনরফা চূড়ান্ত না-হওয়ায় কংগ্রেস নেতৃত্বকেই প্রকারান্তরে দুষছে তেজস্বীর দল।