সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। ফাইল চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে পিছড়ে, দলিত ও অল্পসংখ্যক (পিডিএ) সমাজের ভোটারদের নাম কাটা হচ্ছে বলে আজ সরব হলেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে কাটা না যায়, সে কারণে ভোটারদের নামের সঙ্গে আধারের সংযুক্তিকরণের দাবি তুললেন অখিলেশ।
যে ভাবে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় খসড়া তালিকায় নাম বাদ যাচ্ছে, তা নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলেছেন অখিলেশ। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘কোনও দল এসআইআরের বিরোধিতা করেনি। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে দেখা যাচ্ছে, কোনও কোনও জেলা থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। যাঁদের নাম এক বছর আগেও লোকসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ছিল। এ ভাবে নাম বাদ পড়া নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যে ভাবে বেছে বেছে পিডিএ সমাজের ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তার পিছনে চক্রান্ত রয়েছে বলেইমনে হচ্ছে।’’
গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে পিছড়ে, দলিত ও অল্পসংখ্যক ভোটারেরা সমাজবাদী পার্টিকে ঢেলে ভোট দিয়েছিল। ফলে রাজ্যে ভাল ফল সমাজবাদী পার্টি। অভিযোগ, সপা শিবিরকে দুর্বল করে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখতে পরিকল্পিত ভাবে পিডিএ সমাজের ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছতার প্রশ্নে তাই ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধারের সংযুক্তিকরণের দাবি তুলেছেন অখিলেশ। যদিও বর্তমানে যে এসআইআর চলছে, তাতে নিজেদের আধার নম্বর ফর্মে লেখার সুযোগ রয়েছে ভোটারের। একই সঙ্গে আজ পঞ্চায়েত নির্বাচন ও বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অখিলেশ। তিনি বলেন, ‘‘কেন ওই নামের পার্থক্য, তা নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হবে দল।’’
খসড়া ভোটার তালিকা আসার আগেই যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেছিলেন, খসড়া তালিকায় প্রায় চার কোটি নাম বাদ পড়তে চলেছে। যাদের অধিকাংশই বিজেপির ভোটার। তালিকা সামনে আসার পরে দেখা গিয়েছে, প্রায় তিন কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে যোগী রাজ্যে। কী ভাবে মুখ্যমন্ত্রী আগেভাগেই চার কোটি ভোটার বাদ যেতে চলেছে সে বিষয়ে তথ্য পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অখিলেশ। তাঁর কথায়, ‘‘যদি কত নাম বাদ পড়বে আগে থেকেই ঠিক হয়ে থাকে, তা হলে আর এসআইআরের নিরপেক্ষতা কী থাকল!’’ খসড়া তালিকায় প্রায় ২.৮৯ কোটি ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার পরেই দলীয় নেতৃত্বকে প্রতি বুথে ১০০-২০০ ভোটার যোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। ওই সংখ্যক ভোটার কোথা থেকে আসবে, সেই প্রশ্ন তুলে অখিলেশের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্ত করতে তৎপর হয়েছে যোগী সরকার। অখিলেশের অভিযোগের জবাবে বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, ‘‘এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের সমস্যা হল তারা না পারছেন গিলতে, না পারছেন উগরোতে। এসআইআরের ফলে আখেরে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণে কার লাভ হবে, সেই অঙ্ক মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিরোধী নেতারা।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে