(বাঁ দিকে) উদ্ধব ঠাকরে এবং একনাথ শিন্দে (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
বিপদ কি বাড়ছে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা শিবিরে? মহারাষ্ট্রে শিন্দেসেনার মন্ত্রীর দাবি ঘিরে সেই জল্পনা শুরু। মন্ত্রী গুলাবরাও পাটিলের দাবি, ‘অপারেশন টাইগার ৩.০’ শুরু হয়ে গিয়েছে। উদ্ধব শিবিরের ২০ জন বিধায়কের মধ্যে ১৪ জনই যোগাযোগ রাখছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের সঙ্গে। শীঘ্রই তাঁরা শিন্দে শিবিরে যোগ দেবেন।
বুধবার উদ্ধবের সভাপতিত্বে ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’ জোটের (এমভিএ) পরিষদীয় দলের বৈঠক। সেই বৈঠকে ৬০ বিরোধী বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩৭ জন। তার পর থেকেই উদ্ধব শিবিরের পরিষদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা শুরু হয়। গুলাবরাও সেই জল্পনা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন। সম্প্রতি উদ্ধব শিবিরের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরে। একসঙ্গে লোকসভার ছ’জন সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে শিন্দে শিবিরের সঙ্গে জুড়ে যান। তার পর পরই গুলাবরাওয়ের এ হেন মন্তব্য প্রকাশ্যে এল। তিনি বলেন, ‘‘কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করুন। ১৪ জনের বেশি বিধায়ক একনাথ শিন্দের সঙ্গে জুড়বেন। শিন্দে কথা বলেন না বেশি, তিনি নিজের দাড়িতে হাত বোলান। আর যখন তিনি এমন করেন তখনই ‘অপারেশন টাইগার’ সফল হয়।’’
শিন্দে শিবিরের আর এক মন্ত্রী উদয় সামন্ত যদিও সরাসরি গুলাবরাওয়ের দাবি মানছেন না। তাঁর মতে, ‘‘এমভিএর বিধায়কেরাই যদি চান যে তাঁরা একনাথ শিন্দের নেতৃত্ব মেনে নেবেন, তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। তাঁরা যদি দলে যোগ দিতে চান, আমরা কেন বারণ করব?’’
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ধাঁচে মহারাষ্ট্রে উদ্ধবসেনায় ভাঙন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ায় বড়সড় ধাক্কা লাগে কেন্দ্রের বিজেপিবিরোধী শিবিরে। উদ্ধব শিবিরের বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে ছিলেন নাগেশ আশিতকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকর, ভাওসাহেব ওয়াকচুরে। প্রশ্ন উঠছে, সংসদীয় দলের পর এ বার কি উদ্ধবের পরিষদীয় দলও ভাঙতে চলেছে?
চার বছর আগে ২০২২ সালে শিবসেনা প্রথম বার ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছিল। দলের প্রতিষ্ঠাতা বালসাহেব ঠাকরের পুত্র উদ্ধবের নেতৃত্ব অস্বীকার করে বিজেপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন একনাথ। বিজেপিতে যোগ দেননি, বরং উদ্ধবের হাত থেকে তিনি ছিনিয়ে নেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রিত্ব, দলের নাম এবং ‘তির-ধনুক’ প্রতীক। চার বছরের মাথায় ফের সেই দল ভাঙন ধরে। সাংসদদের হাত ধরে সেই ভাঙনের সূত্রপাত। নেপথ্যে অভিযুক্ত সেই একই ব্যক্তি— একনাথ। মহারাষ্ট্রে এই দল ভাঙানোর খেলাকে ‘অপারেশন টাইগার’ বলা হচ্ছে।