(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল। (ডান দিকে) সিয়া গয়াল। ছবি: সংগৃহীত।
তিনি বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। এ কথা কেতনকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও কেতন তাঁর সঙ্গে বাগ্দানপর্ব বাতিল করতে রাজি হননি। জেরায় তদন্তকারীদের এমনটাই জানিয়েছেন পুণে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত সিয়া গয়াল। বাগ্দান বাতিল করতে না-চাওয়াই কি কাল হল কেতনের? তার জেরেই কি খুন হতে হল তাঁকে? যদিও এ বিষয়ে সিয়া কোনও জবাব দেননি বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর।
পুণে গ্রামীণ পুলিশ সূত্রে খবর, সিয়া তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, কেতনকে বার বার বুঝিয়েছিলেন যে, এখন বিয়ে করা তাঁর পক্ষে কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। অতএব যে বাগ্দানপর্বের আয়োজন করা হয়েছে, সেটি যেন বাতিল করে দেওয়া হয়। কিন্তু কেতন জেদ ধরেছিলেন, এই অনুষ্ঠান বাতিল করা যাবে না। এর জেরে মানসিক টানাপড়েনে পড়েন সিয়া। তার পর বিষয়টি চেতনকে জানান। তদন্তকারী সূত্রের খবর, চেতন তখন সিয়াকে জানিয়েছিলেন যে, এই সমস্যা থেকে বেরোতে গেলে তাঁদের পালানো জরুরি। কিন্তু তা সেটা চাননি পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়া তাঁদের জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে চেতনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সিয়া আরও দাবি করেছেন যে, কেতনকে যখন তিনি বাগ্দানপর্ব বাতিল করার কথা জানিয়েছিলেন, তখন কেতন তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী। সিয়া যদি এই অনুষ্ঠান এড়িয়ে পালানোর চেষ্টাও করেন, সেটাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। সিয়ার দাবির সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে সিয়া এবং কেতনের বাগ্দান অনুষ্ঠান হয়। নভেম্বরে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। রাজস্থানের উদয়পুরে ১৭ কোটি টাকা খরচে রাজকীয় মহল ভাড়া করেছিল কেতনের পরিবার। দু’টি বিমানও ভাড়া করা হয়েছিল অতিথিদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ১৮ জুন লোণাবলায় লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে কেতনকে খুনের অভিযোগ উঠেছে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনের বিরুদ্ধে।