Ketan Agarwal Murder Case

পুণের ব্যবসায়ীপুত্রের মৃত্যু: কেতনকে খাদে ঠেলল কে? সিয়া-চেতনের পরস্পরবিরোধী বয়ানে নতুন মোড় তদন্তে

চেতনের বাবা বাবুলাল চৌধরিও দাবি করেছেন, তাঁর পুত্র এই কাজ করতে পারেন না। তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। বাবুলালের আরও দাবি, চেতন তাঁদের জানিয়েছেন যে, কেতনকে তিনি ঠেলে ফেলেননি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৭:৫৬
Share:

লোহাগড় দুর্গের এই জায়গা থেকেই কেতনকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালকে খুন করলেন কে? সিয়া না কি চেতন? তদন্তকারী সূত্রের খবর, দায় ঝেড়ে ফেলতে দু’জনেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আঙুল তুলছেন। সিয়ার দাবি, ঘটনার জন্য দায়ী চেতন। অন্য দিকে চেতনের দাবি, সিয়াই কেতনকে ঠেলে ফেলেছেন। আর এখানেই তদন্তে এক নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে।

Advertisement

তদন্তকারী এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তই নিজেদের গা বাঁচানোর চেষ্টায় মরিয়া। দু’জনেরই দাবি, এই খুনের পরিকল্পনা করেননি তাঁরা। বরং সিয়া দুষছেন চেতনকে। আবার চেতন দুষছেন সিয়াকে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, দু’জনের বয়ানে অনেক অসঙ্গতিও ধরা পড়ছে। চেতন দাবি করেছেন, তিনি সিয়াকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু সিয়া পালাতে চাননি। বরং তাঁকে জোর করেছিলেন যে, কেতনকে পথ থেকে সরিয়ে দিলেই সমস্যা মিটে যাবে।

অন্য দিকে, সিয়া আবার পাল্টা দাবি করেছেন, কেতনকে হত্যার পরিকল্পনার পুরোটাই চেতনের মস্তিষ্কপ্রসূত। তাঁর আরও দাবি, ১৪ জুন কেতনকে খুনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর কান্নাকাটি করেছিলেন চেতন। তবে তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়া স্বীকার করেছেন, কোন ইঙ্গিত দিলে কেতনকে ধাক্কা মেরে ফেলতে হবে, সেটা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিয়া এবং চেতন লোহাগড় দুর্গে বেশ কয়েক বার গিয়েছিলেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন কোন জায়গা থেকে ঠেলে ফেলা সহজ কাজ হবে। তার পরই দুর্গের ভিঞ্চু কাটা নামের জায়গাটিকে বেছে নেওয়া হয়। কারণ, ওই জায়গাটি বেশির ভাগ সময়েই নির্জন থাকে। পর্যটকেরা খুব একটা ও দিকে যান না।

Advertisement

তবে চেতনের বাবা বাবুলাল চৌধরিও দাবি করেছেন, তাঁর পুত্র এই কাজ করতে পারেন না। তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। বাবুলালের আরও দাবি, চেতন তাঁদের জানিয়েছেন যে, কেতনকে তিনি ঠেলে ফেলেননি। এই খুনের ঘটনায় তাঁর কোনও হাত নেই। তাঁর কথায়, ‘‘চেতন আমাদের পরিষ্কার বলেছিল যে, সে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। মেয়েটিই ওই ছেলেটির পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। যখন ছেলেটি পড়ে যায়, সেই সময়েও মেয়েটি দাঁড়িয়ে ছিল। আমি জানি না ছেলেটিকে ওই মেয়েটি ঠেলে ফেলে দিয়েছিল কি না, তবে এটা বলতে পারি, চেতন এ কাজ করতে পারে না।’’ বাবুলালের আরও দাবি, সিয়াকে তাঁরা চেনেন না, কখনও তাঁর নাম শোনেননি। এই ঘটনার পর থানায় গিয়ে সিয়ার নাম জানতে পেরেছেন। এমনকি, মেয়েটির নাম যে সিয়া, সেটাও তিনি থানায় গিয়ে জানতে পেরেছেন বলে দাবি বাবুলালের। তা হলে কেতনকে কে ঠেলে ফেললেন, সিয়া এবং চেতনের দু’রকম বয়ান ও পারস্পরিক দোষারোপ সেই তদন্তকে নতুন দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন লোনাভালায় লোহাগড় দুর্গ থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, এটি পরিকল্পিত খুনের ঘটনা হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement