(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভারত-মার্কিন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনা পিছিয়ে যাচ্ছে। রবিবার সূত্র উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা পিটিআই। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতার আইনি দিকগুলি চূড়ান্ত করতে আমেরিকায় বৈঠকে বসার কথা ছিল দুই দেশের আধিকারিকদের। কিন্তু সেই বৈঠক আপাতত হচ্ছে না বলে বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর।
ওই সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনা করে দু’পক্ষ পারস্পরিক সম্মতিক্রমে স্থির করেছে যে, উভয়ের সুবিধা হয় এমন সময়ে বৈঠকটি হবে। অর্থাৎ, পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনে ভারত এবং আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকটি হচ্ছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে বা সূত্র মারফত কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ না-জানানো হলেও মনে করা হচ্ছে এর নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়। বস্তুত, শুক্রবারই আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প। সে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের উপর ট্রাম্প যে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা বেআইনি। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা খাওয়ার পরেই নতুন শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিক ভাবে ১০ শতাংশ হারে ‘সাময়িক শুল্ক’ ঘোষণা করেন তিনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা আরও বৃদ্ধি করেন। জানিয়ে দেন, ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হবে বিভিন্ন দেশের থেকে। তবে এই শুল্ক ‘সাময়িক’। কারণ, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে নতুন এই শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। আইন বলছে, এতেও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনই শেষ কথা। প্রাথমিক ভাবে অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি এই ধরনের শুল্ক কার্যকর করা যায় না।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “শুল্ক নিয়ে গতকাল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা আমাদের নজরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ বিষয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। আমেরিকার প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। আমরা এই সকল বিষয়ের প্রভাব খতিয়ে দেখছি।”