Constitution Amendment Bill

মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে লোকসভায় ৮৫০ আসন চায় মোদী সরকার! জনগণনার আগে পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন

মোদী সরকার জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাসের মতো পৃথক বিষয়কে এক সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল। বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসছে তারা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩০
Share:

লোকসভার অধিবেশন। —ফাইল চিত্র।

চলতি সপ্তাহেই সংসদে লোকসভার পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধনী বিল পেশ করতে সক্রিয় হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনেই মহিলা আসন সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার উদ্দেশ্যে আনা এই বিলের পোশাকি নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। সেই বিলের সঙ্গেই ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলও পেশ করা হবে আসন্ন অধিবেশনে। সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হতে পারে। বিলের খসড়ায় এমনই প্রস্তাব রয়েছে। মঙ্গলবার সে খসড়া পেয়ে গিয়েছেন সাংসদেরা।

Advertisement

কেন্দ্রের একটি সূত্র জানাচ্ছে, মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সব রাজ্যেরই লোকসভা আসন ন্যূনতম ৫০ শতাংশ করে বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা আসন ৪২টি থেকে বেড়ে হতে পারে অন্তত ৬৩টি। মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাশের উদ্দেশ্যে সংসদের বাজেট অধিবেশনের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সেই অধিবেশনে মোদী সরকার ওই বিল পাশ করাবে। সংরক্ষণ কার্যকরের উদ্দেশ্যে সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে বিলে। ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণনার শেষ হওয়ার পরে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। কিন্তু জনগণনার রিপোর্ট প্রকাশের আগেই লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে চাইছে মোদী সরকার।

২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণএর ওই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি পৃথক বিষয়কে এক সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল। আগামী ১৫ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলি দিল্লিতে আলোচনায় বসতে চলছে। সংবিধান সংশোধনের বিল পাশের জন্য সংসদের দু’কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। কিন্তু মোদী সরকারের তা নেই। এই পরিস্থিতিতে বিলটি আটকাতে চায় বিরোধীদের একাংশ। তাদের যুক্তি, ২০২৩-এর আইন অনুযায়ী চললে, মহিলা সংরক্ষণ ২০৩৪-এর লোকসভা ভোটে বাস্তবায়িত হত। কিন্তু নতুন সংশোধনী বিল অনুযায়ী, ২০২৭-এর জনগণনার অপেক্ষা না করেই লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো ও পুনর্বিন্যাস করা হবে। ২০২৯-এর লোকসভা ভোটে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই কৌশল মোদী সরকারের।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement