চাকরির দাবিতে সাতসকালেই রেল অবরোধ। ছবি: পিটিআই।
রেলে চাকরির দাবি নিয়ে রেললাইনেই বসে পড়লেন ওঁরা! আর তাতেই ভেঙে পড়ল দক্ষিণ মুম্বইয়ের রেল পরিষেবা। দুপুরের দিকে পরিষেবা চালু হলেও দিনভর তা স্বাভাবিক হয়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে রেল লাইনে বসে ট্রেন অবরোধ করেন শ’পাঁচেক ছাত্র। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই রেলওয়ে অ্যাপ্রেনটিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। রেলের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন তাঁরা। তা সত্ত্বেও রেলের স্থায়ী চাকরি পাননি। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছেন, অ্যাপ্রেনটিস আইন অনুযায়ী, শিক্ষানবিশদের রেলের স্থায়ী চাকরি দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। কেবল স্বল্পকালীন মেয়াদে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা বাড়ে। যদিও ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নিয়োগ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল মন্ত্রক। তবে অবরোধকারীদের দাবি, ওই কোটা তুলে দিতে হবে।
এ দিন সাতসকালেই চাকরির দাবিতে মাতুঙ্গা থেকে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (সিএসএমটি) স্টেশনের মাঝের রেল লাইনে বসে পড়েন তাঁরা। ব্যস্ত সময়ে এই অবরোধে আটকে পড়ে একাধিক ট্রেন। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, অবরোধের জেরে প্রায় সেন্ট্রাল রেলের প্রায় ৩০টি লোকাল-সহ এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়। বিপাকে পড়েন অসংখ্য যাত্রী।
আরও পড়ুন
কংগ্রেসকে ছাড়াই জোট চান মমতা-রাও
অবরোধকারীদের হঠাতে লাঠিচার্জ করেন পুলিশকর্মীরা। তবে তাতেও দমেননি তাঁরা। পুলিশকর্মীদের অভিযোগ, লোকাল ট্রেনে পাথর ছোড়েন অবরোধকারীরা। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, পুলিশের যথেচ্ছ লাঠিচালনায় আহত হয়েছেন বহু অবরোধকারী। তাঁরা জানিয়েছেন, রেলওয়ে অ্যাপ্রেনটিস পরীক্ষায় পাশ করলেও গত চার বছরে কোনও নিয়োগ হয়নি রেলে। এক অবরোধকারীর কথায়, “রেলের চাকরির জন্য হেন উপায় নেই যে আমরা চেষ্টা করিনি।” তাঁর দাবি, “চাকরি না পেয়ে এখনও পর্যন্ত ১০ জনের বেশি ছাত্র আত্মহত্যা করেছেন। এ রকমটা চলতে দেওয়া যায় না।” অন্য এক অবরোধকারীর দাবি, “যত ক্ষণ পর্যন্ত রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল আমাদের সঙ্গে দেখা না করেন নিজেদের দাবিতে অনড় থাকব আমরা।”