অসম-নাগাল্যান্ড সীমা বিবাদ

মামলার শুনানি পিছোতে রাজি নয় সুপ্রিম কোর্ট

তিন দশকের সীমানা বিবাদ নিয়ে চলতে থাকা মামলার শুনানি ফের স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিল নাগাল্যান্ড। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বিরক্ত হয়ে জানিয়ে দিয়েছেন: নির্দিষ্ট দিনেই শুনানি হবে। ২৭ বছর ধরে চলতে থাকা মামলায় অনর্থক সময় বাড়াতে রাজি নন তাঁরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০১৫ ০৩:০৭
Share:

তিন দশকের সীমানা বিবাদ নিয়ে চলতে থাকা মামলার শুনানি ফের স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিল নাগাল্যান্ড। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বিরক্ত হয়ে জানিয়ে দিয়েছেন: নির্দিষ্ট দিনেই শুনানি হবে। ২৭ বছর ধরে চলতে থাকা মামলায় অনর্থক সময় বাড়াতে রাজি নন তাঁরা।

Advertisement

১৯৬৩ সালের ৩০ নভেম্বর পৃথক পূর্ণরাজ্য হয় নাগাল্যান্ড। ১ ডিসেম্বর দুই রাজ্যের সীমানা তৈরি হয়। কিন্তু সেই মানচিত্র হারিয়ে গিয়েই ঝামেলা বেড়েছে। দুই রাজ্যের মধ্যে প্রায় সাড়ে চারশো কিলোমিটার সীমানা রয়েছে। অসমের দাবি, নাগারা অসমের আওতায় পড়া শিবসাগর, যোরহাট, গোলাঘাট ও কার্বি আংলং জেলা মিলিয়ে প্রায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমি দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে কেবল গোলাঘাটেই জবরদখল করা জমির পরিমাণ ৪২ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ সংরক্ষিত অরণ্য। দুই রাজ্যের মধ্যে সীমানা বিবাদের জেরে শতাধিক মানুষের প্রাণ গিয়েছে। গত বছরও গোলাঘাটে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। অসমের দাবি, ১৯৬৩ সালে নির্ধারিত সীমানাই মানা হোক। কিন্তু নাগাল্যান্ডের দাবি, ব্রিটিশরা আসার আগে থেকেই ওই জমি বংশানুক্রমে নাগাদের ছিল। ১৮২৬ সালে ইয়ান্দাবুর সন্ধির পরে ইংরেজরা নতুন সীমানা তৈরি করে। নাগাল্যান্ডের ক্ষেত্রে আরও সমস্যা হল, সেখানে উপজাতিদের জমি সরকারের নয়। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। সরকার চাইলেই কাউকে সরাতে পারে না।

১৯৮৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে অসম সরকার। ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট সীমান্ত কমিশন তৈরি করে। কমিশন দুই রাজ্যের কাছেই সীমা সংক্রান্ত সব আসল নথি চেয়ে পাঠায়। তখনই জানা যায়, ১৯৬৩ সালে তৈরি অসম-নাগাল্যান্ডের আসল মানচিত্রটি উধাও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, সব আসল নথির সঙ্গে মানচিত্রটিও অসমকে রাখতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অসম সেটি হারিয়েছে। নাগাল্যান্ড অভিযোগ করে, ইচ্ছাকৃতভাবেই মানচিত্র হারিয়েছে অসম। এরপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সীমান্তে ‘ডিসটার্বড এরিয়া বেল্ট’ বা ডিএবি বরাবর স্থিতাবস্থা জারি করা হয়। প্রহরার দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে। সেখানে দুই রাজ্যের কোনও পুলিশ বা প্রশাসনিক কাঠামো নির্মাণ, নতুন করে জমি লিজ দেওয়া নিষিদ্ধ হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুই রাজ্যের মানুষের মধ্যে সংঘাত চলছেই।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করে ৭ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যেই ২৫ জুন নাগাল্যান্ডের নতুন অ্যাডভোকেট জেনারেল হন বিক্রমজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, এত বছরের জটিল তথ্য ও নথি নতুন করে জানতে ও বুঝতে তাঁর আরও সময় দরকার। শুনানি আরও পিছনো হোক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি টি এস ঠাকুর ও আর ভানুমতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছেন, তিন দশক ধরে একটি মামলা টানা হচ্ছে। তা আর পিছনো চলবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement