নিহত একই পরিবারের চার জন। ছবি: সংগৃহীত।
দু’কোটি টাকার সম্পত্তির লোভে স্ত্রীর কাকিমা, তাঁর স্বামী এবং দুই সন্তানকে খুনের অভিযোগ উঠল। তেলঙ্গানার নলগোন্ডা জেলার ঘটনা। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে খুনের কিনারা করল পুলিশ। গত ১৯ জুন ঘটনাটি ঘটে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের নাম সৈয়দ আসলাম। তিনি হায়দরাবাদের ক্যাবচালক। আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে পড়ে স্ত্রীর কাকিমা হাসিনার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ধার নেন। সেই টাকা আসলামকে দিয়েও দেন হাসিনা। কিছু দিন পর আবার এক লক্ষ টাকা ধার দেওয়ার জন্য হাসিনার বাড়িতে যান আসলাম। কিন্তু হাসিনা জানিয়ে দেন, আগের টাকা শোধ না করলে আর টাকা দেবেন না তিনি। দু’-চার কথা আসলামকে শুনিয়েও দেন হাসিনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই অপমান মেনে নিতে পারেননি আসলাম। অভিযোগ, হাসিনার দু’কোটির সম্পত্তির উপরেও নজর ছিল আসলামের। বাড়ির দলিল এবং সম্পত্তির নথি চুরি করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যর্থ হন। তখন আসলাম সরাসরি হাসিনাকে হুমকি দেন তাঁর হাতে সম্পত্তির নথি তুলে দিতে হবে। ধার দিতে হবে টাকাও। এই হুমকির কাছে মাথা নত করেননি হাসিনা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এই বিষয়টি স্ত্রী তবস্সুমকে জানান আসলাম। জানা গিয়েছে, তবস্সুমের আক্রোশ ছিল কাকিমার উপর। তাঁর মাকে একটি ঘটনায় জেল খাটিয়েছিলেন হাসিনার প্রথম পক্ষের স্বামী। ফলে সেই আক্রোশ থেকেই আসলামকে হাসিনার বাড়ি থেকে গয়না এবং সম্পত্তির নথি চুরি করতে তবস্সুম উস্কানি দেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হাসিনাকে খুনের পরিকল্পনা করেন আসলাম। কী ভাবে খুন করা যায়, তার পর প্রমাণ লোপাট কী ভাবে করা যায়— ইত্যাদি কৌশল জানতে অনলাইনে ভিডিয়ো দেখেন। তার পর পরিকল্পনামতো হাসিনার বাড়িতে যান ভোরবেলায়। প্রথমে হাসিনাকে কোপানো হয়। তার পর তাঁর স্বামী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এর পর সম্পত্তির নথি, গয়না এবং নগদ টাকা নিয়ে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে খবর, হাসিনাকে সাত বার কোপানো হয়, তাঁর স্বামীকে ছ’বার। তাঁদের কন্যা আফসারাকে ন’বার এবং পুত্র মুজাম্মিলকে ১৬ বার কোপানো হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে আসলাম-সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে নগদ কয়েক লক্ষ টাকা, গয়না উদ্ধার হয়েছে।