Budget 2026

‘সপ্তভুজা’ নির্মলা! বাজেট তৈরিতে সদা সঙ্গী সাত জন সচিব, আয়কর কাঠামোর দায়িত্বে কে, কে লাগাম টানেন খরচে

অর্থ মন্ত্রকের অধীনে থাকা ছ’টি দফতর ছাড়াও মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বাজেটে সহায়তা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে। ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করা হবে লোকসভায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১১
Share:

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

টানা নবম বার বাজেট পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ১ ফেব্রুয়ারি, আগামী রবিবার সেই বাজেট পেশ হবে লোকসভায়। এখন তা নিয়েই শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ চলছে। আর এই বাজেট নিয়ে নির্মলাকে সাহায্য করেন কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অভিজ্ঞ আমলাদের একটি দল।

Advertisement

দেশে এখন আর্থিক বৃদ্ধি ৭.৪। চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে লোকসভায় তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার। কারা সাহায্য করছেন নির্মলাকে?

অনুরাধা ঠাকুর, অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব

Advertisement

বাজেটের মুখ্য কারিগর হলেন এই অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব। ২০২৬-২৭ সালে কোন খাতে কত বরাদ্দ হবে, বিভাগীয় প্রধান হিসাবে তা স্থির করেন তিনি। বাজেটের নথি প্রস্তুতকারী বিভাগের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। অনুরাধা প্রথম বার এই দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৪ ব্যাচের হিমাচল প্রদেশ ক্যাডারের এই আইএএস অফিসার ২০২৫ সালের ১ জুলাই এই দায়িত্ব পান। দেশে তিনিই প্রথম মহিলা, যিনি এই অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের শীর্ষপদে বসেছেন।

অরবিন্দ শ্রীবাস্তব, রাজস্বসচিব

কর প্রস্তাব (বাজেট প্রস্তাবের পার্ট ‘বি’)-এর দায়িত্বে রয়েছেন রাজস্বসচিব। তিনি এবং তাঁর সহকারী দল প্রত্যক্ষ কর (আয়কর, কর্পোরেট কর), পরোক্ষ কর (জিএসটি, শুল্ক)-এর বিষয়টি স্থির করেন। রাজস্বসচিব হিসাবে অরবিন্দের এটাই প্রথম বাজেট। এর আগে অর্থ মন্ত্রকের বাজেট বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন। তার পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বদলি হয়েছিলেন। বাজেটে রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে রাজস্বসচিবের।

ভামলুনমাং ভুয়ালনাম, ব্যয়সচিব

অর্থ মন্ত্রকে ব্যয়সচিবকি বলা হয় ‘অর্থ গচ্ছিত রাখা ব্যাগের অভিভাবক’। সরকার কত খরচ করবে, ভর্তুকি কত দেবে, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি কী ভাবে কার্যকর করা হবে, তা দেখেন ব্যয়সচিব। কী ভাবে ঘাটতির মোকাবিলা করা হবে, পরবর্তী আর্থিক বর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেন তিনি।

এম নাগরাজু, অর্থনৈতিক পরিষেবা সচিব

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং অন্যান্য প্রকল্পের দায়িত্বে থাকেন অর্থনৈতিক পরিষেবা সচিব। ব্যাঙ্ক, পেনশন ব্যবস্থা, বিমা সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নজর রাখে এই দফতর। সামাজিক সুরক্ষা, ধার বৃদ্ধি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করে এই দফতর। তার সচিব হিসাবে বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে নাগরাজুর।

অরুণীশ চাওলা, বিনিয়োগ এবং জন সম্পদ ম্যানেজমেন্ট (ডিআইপিএএম) দফতরের সচিব

কেন্দ্রীয় সরকারের বেসরকারিকরণের রূপরেখা তৈরি করে এই দফতর। সেন্ট্রাল পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইস (সিপিএসই)-তে স্টেক বিক্রি করে রাজস্ব বৃদ্ধির বিকল্প পথ তৈরি করে এই দফতর।

কে মোসেস চালাই, পাবলিক এন্টারপ্রাইস বিভাগের সচিব

সরকারি সংস্থাগুলির স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখে এই দফতর। বাজেট বরাদ্দ যথাযথ ভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা-ও দেখে।

অর্থ মন্ত্রকের অধীনে থাকা ছ’টি দফতর ছাড়াও মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা বাজেটে বিশেষ পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন।

ভি অনন্ত নাগেশ্বরন, মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা

দেশে আর্থিক বৃদ্ধি কতটা হতে পারে, কৃষি, শিল্প, পরিষেবা ক্ষেত্র এক বছরে কী ফল করল, বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি কতটা— এ সব বিশ্লেষণ করেন মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা। আর্থিক সংস্কার, কৌশল, রাজস্ব নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement