বয়স এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ইরাকে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন ভারতীয় শ্রমিক অপহৃত। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, তাঁদের প্রায় সকলেরই বাড়ি পঞ্জাবে। সাম্প্রতিক অতীতে এত বড় মাপের অপহরণের ঘটনা গোটা বিশ্বেই বিরল বলে মনে করছে কূটনৈতিক শিবির।
পঞ্জাব সরকারের এক কর্তা জানান, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিংহ বাদল ইতিমধ্যেই বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অপহৃতদের দেশে ফেরানোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে পঞ্জাব। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে সাউথ ব্লক। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, সাহায্য চেয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে আমেরিকা, ইজরায়েল, তুরস্ক এবং ইরানের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরুদ্দিন জানান, “উত্তর ইরাকের মসুল থেকে ৪০ জন ভারতীয় শ্রমিক অপহৃত। তাঁরা ইরাকের তারেক নুর আল হুদা নামের নির্মাণ সংস্থায় কাজ করতেন।” তাঁরা কী অবস্থায় আছেন, জানতে পারেনি নয়াদিল্লি। কী ভাবে, কেন অপহরণ করা হয়েছে তা নিয়েও তথ্য নেই। নেই নামের তালিকাও। রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আরব বিশ্বে নির্মাণ শিল্পে কাজ করতে ভারতের অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে যে সব শ্রমিক যান, তাদের ব্যাপারে অনেক সময়ই বিশদ তথ্য থাকে না সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের কাছে। তারা নিজেরাও যোগাযোগ রাখেন না বিদেশের ভারতীয় কর্তাদের সঙ্গে। ফলে তাঁদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে অসহায় পরিস্থিতিতে সাউথ ব্লক। জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে ইরাক সরকার এবং ওই নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চায়নি বলেই জানিয়েছেন আকবরুদ্দিন। ইরাকে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত সুরেশ রেড্ডিকে সে দেশে পাঠানো হয়েছে, অপহৃতদের উদ্ধারে ভারতীয় দূতাবাসকে সাহায্য করতে।
শুধু ভারত নয়, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, তুর্কমেনিস্তান-সহ নানা দেশের নাগরিকদের আইএসআইএস অপহরণ করেছে বলে দাবি সংবাদমাধ্যমের। দেশে ফিরতে চেয়ে মোদী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ইরাকের তিকরিত শহরে আটকে থাকা ৪৬ জন ভারতীয় নার্সও। তাঁরা কেরলের বাসিন্দা। আরও ১২ জন ভারতীয় শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত টি পি শ্রীধরন। ওই শ্রমিকরা ইরাকে আমিরশাহির একটি সংস্থার নির্মাণ কার্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের ফেরাতে ভারত সরকারের শরণাপন্ন হয়েছে আমিরশাহির সংস্থাটিই।
বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তার বক্তব্য, “ইরান এবং ইজরায়েলদু’টি দেশের সঙ্গেই যোগাযোগের বিষয়টি পরস্পরবিরোধী বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কার্যোদ্ধারের জন্য এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।” এ ধরনের ঘটনার সমাধানে ইজরায়েল সিদ্ধহস্ত। বিদেশ মন্ত্রকের কর্তারা এ-ও মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে উত্তর ইরাকের কুর্দ প্রশাসন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখে। কুর্দিস্তান ইরাকের অংশ হলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে বহু দিন ধরেই। তাদের সামরিক বাহিনী আইএসআইএস-কে মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত। ফলে এই অপহৃতদের খুঁজে বার করার জন্য কুর্দ প্রশাসনের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে। আজ রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।