অসমে উদ্ধার আরও পাঁচ লাশ, মৃত বেড়ে ৪০

নিখোঁজদের সন্ধানে নদী-তল্লাশিতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে নামানোর পরেই বড়োভূমিতে আরও পাঁচটি দেহ উদ্ধার হল। এই নিয়ে সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০। এখনও ১০ জনের কোনও খোঁজ নেই। এনডিআরএফ বাহিনী আজ ডুমুনি, গোবর্ধন ও বালাপাড়ায় বেকি নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে দুই শিশু ও দুই মহিলা-সহ ৫ জনের দেহ উদ্ধার করে। আতঙ্কে গ্রাম ছাড়া কয়েক হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই বাক্সা-কোকরাঝাড়-ধুবুরির আশ্রয়-শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০১৪ ০৩:০২
Share:

নিখোঁজদের সন্ধানে নদী-তল্লাশিতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে নামানোর পরেই বড়োভূমিতে আরও পাঁচটি দেহ উদ্ধার হল। এই নিয়ে সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০। এখনও ১০ জনের কোনও খোঁজ নেই।

Advertisement

এনডিআরএফ বাহিনী আজ ডুমুনি, গোবর্ধন ও বালাপাড়ায় বেকি নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে দুই শিশু ও দুই মহিলা-সহ ৫ জনের দেহ উদ্ধার করে। আতঙ্কে গ্রাম ছাড়া কয়েক হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই বাক্সা-কোকরাঝাড়-ধুবুরির আশ্রয়-শিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন। তবে গত চার দিনে নতুন করে বড়োভূমির কোথাও সংঘর্ষ ছড়ায়নি। নতুন করে সংঘর্ষ না ছড়ানোয় পর্বতঝোরা বাদে, কোকরাঝাড়, বাক্সা, চিরাং, ধুবুরির সব মহকুমায় সকাল থেকে বিকেল অবধি কার্ফু শিথিল করা হয়। এ দিকে, আজ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বড়োভূমির ঘটনায় সরকারি ব্যর্থতার প্রতিবাদে আসু বিক্ষোভ দেখায়।

বিরোধী দলগুলি ও গ্রামবাসীদের কড়া সমালোচনার মুখে সংঘর্ষ শুরুর ছ’দিন পর আজ মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বাক্সায় যান। নারায়ণগুড়ি এবং বালাপাড়ার আশ্রয়-শিবির ঘুরে দেখেন তিনি। এই ঘটনাকে অমানবিক ও কাপুরুষোচিত বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “হত্যালীলায় জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না। এলাকা থেকে বেআইনি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে অভিযান চলছে।” তিনি এলাকায় স্থায়ী পুলিশ পিকেট বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভরসা দেন। পুলিশকে নির্দেশ দেন, দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে হবে। শিবিরবাসীদের পর্যাপ্ত ত্রাণ ও ঘরহারাদের দ্রুত বাড়ি তৈরিতে সাহায্যের জন্য তিনি প্রশাসনকেও নির্দেশ দেন।

Advertisement

আক্রান্তরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান, সংঘর্ষে কংগ্রেসের জোট শরিক বিপিএফ জড়িত। গগৈ বলেন, “এনআইএ এই ঘটনার তদন্ত করছে। প্রকৃত অপরাধী কে তা জানতে পারলে দল নির্বিশেষে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।” তিনি বলেন, “আর বিপিএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সঙ্গে জোট ভাঙতে আমার ৫ মিনিটও লাগবে না।” পাশাপাশি, সরকার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তও করছে। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ৪৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় ৩৬টি স্থায়ী পুলিশ পিকেট গড়া হয়েছে। বন্ধ-অবরোধের নামে আইন হাতে নেওয়া কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে গগৈ সমস্ত জেলা প্রশাসনকে অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অবরোধকারীদের হাতে ক্ষতি হওয়া সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ অবরোধ বা বন্ধের ডাক যারা দিয়েছে, সেই সব সংগঠনের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে: সরকারি ভাবে ৫ লক্ষ টাকা অর্থ সাহায্যের পাশাপাশি, অনাথ শিশুদের লেখাপড়া এবং ভরণ-পোষণের ভারও সরকার নেবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement