শক্তি মিলস কাণ্ডে অভিযুক্ত তিন জনকে একাধিক বার ধর্ষণের অপরাধেই আজ দোষী সাব্যস্ত করল দায়রা আদালত। নির্ভয়া কাণ্ডের পর ধর্ষণ সংক্রান্ত যে কড়া আইন জারি হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট বলা আছে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও বার বার ওই একই অপরাধ করলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে (ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ই ধারা)। শক্তি মিলস মামলাতেই প্রথম এই নতুন আইনটির প্রয়োগ হল। দ্বিতীয় বার ধর্ষণে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর তিন অভিযুক্ত বিজয় যাদব, কাসিম বাঙালি ও মহম্মদ সালিম আনসারির এ বার ফাঁসির সাজা পর্যন্ত হতে পারে।
মুম্বইয়ে পরিত্যক্ত শক্তি মিলস চত্বরে গত বছর জুলাই মাসে ধর্ষিতা হন এক টেলিফোন অপারেটর তরুণী। এর এক মাসের মাথায়, ২২ অগস্ট ফের ওই জায়গাতেই ধর্ষণ করা হয় এক চিত্রসাংবাদিককে। টেলিফোন অপারেটর তরুণীকে যে পাঁচ জন ধর্ষণ করেছিল, তাদের মধ্যে তিন জন জড়িত ছিল দ্বিতীয় অপরাধেও।
মেয়েদের সুরক্ষার বিষয়ে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর যে সুনাম ছিল, তা পর পর এই দুই ঘটনায় রীতিমতো ধাক্কা খায়। ভাবমূর্তি পুনরোদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ করে সরকার। ক’দিনের মাথাতেই গ্রেফতার হয় সব অভিযুক্ত। ২৮ দিনের মধ্যে ৬০০ পাতার চার্জশিট দেয় পুলিশ। মোটে সাত মাসের মাথায় শেষ হয়ে যায় শুনানিও। গত মাসের একুশ তারিখ, টেলিফোন অপারেটর তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় দোষী পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শুনিয়েছিলেন দায়রা আদালতের বিচারক শালিনী ফেনসালকর জোশী।
চিত্রসাংবাদিক গণধর্ষণের সাজা ঘোষণাও ওই দিনই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম রায় ঘোষণার পরই সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকম আবেদন করেন, ৩৭৬(ই) ধারা মেনে বিজয়-কাসিম-সালিমের নামে অতিরিক্ত চার্জ আনতে চান তিনি।
২৪ মার্চ বাড়তি চার্জ গঠনের পর বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী। কিন্তু মামলার এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপে রাজি হননি বিচারপতিরা। একই সঙ্গে ৩৭৬(ই) ধারার যৌক্তিকতা দেখে ছ’সপ্তাহের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলকে রিপোর্ট জমা দিতেও নির্দেশ দেন তাঁরা।
অভিযুক্তদের দোষী প্রমাণিত হওয়ার পর্ব এ বার শেষ। কাল হয়তো তিন অপরাধীকে আরও এক বার শাস্তি শোনাবে নিম্ন আদালত। নির্ভয়া মামলার রায়ের পুনরাবৃত্তি হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।